ময়মনসিংহ নগরীতে সিএনজি স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন সিএনজি চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর জেলখানা গেট সংলগ্ন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুনভাবে স্থানান্তরিত সিএনজি স্ট্যান্ডে আধিপত্য ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহতদের পরিচয় ও অবস্থা
সংঘর্ষে আহতরা হলেন নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি ও সিএনজি চালক রমজান আলী (৪৫) এবং মো. রাশেদ (২৪)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনই বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংঘর্ষের পেছনের অভিযোগ
মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম দুলাল অভিযোগ করেন, টাউন হল এলাকা থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড স্থানান্তর করে জেলখানা গেট এলাকায় নেওয়ার পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। তার দাবি অনুযায়ী, বিভাগীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত দাস দুকুল নতুন স্ট্যান্ডে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা দাবি করতে থাকেন।
তিনি বলেন, চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে চালকদের সঙ্গে দুকুলের অনুসারীদের একাধিকবার কথাকাটাকাটি হয়। সর্বশেষ ঘটনাটিতে দুকুলের নেতৃত্বে একদল লোক চালকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে দুই চালক রক্তাক্ত হয়ে আহত হন।
শ্রমিকদের অভিযোগ ও ক্ষোভ
স্থানীয় সিএনজি চালকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির কারণে তারা অতিষ্ঠ। তাদের দাবি, নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছিল, যা না দিলে হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হতো। এই পরিস্থিতিতে তারা একাধিকবার প্রতিবাদ জানালেও কার্যকর সমাধান হয়নি।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, এসব ঘটনার প্রতিবাদে অতীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হলেও তিনি জামিনে বের হয়ে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা দেবব্রত দাস দুকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্টেডিয়াম এলাকায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে সিএনজি স্ট্যান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, চালকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তিনি বলেন, “আমি কারও ওপর হামলা করিনি। বরং আমার ওপরই হামলা হয়েছে এবং আমি এর শিকার হয়েছি।”
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের বেশি আহত হওয়ার খবর রয়েছে।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় |
তথ্য |
| স্থান |
জেলখানা গেট সংলগ্ন এলাকা, ময়মনসিংহ |
| তারিখ |
২০ এপ্রিল (সোমবার) |
| সংঘর্ষের কারণ |
সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদা ও আধিপত্য বিরোধ |
| আহত ব্যক্তি |
রমজান আলী (৪৫), মো. রাশেদ (২৪) |
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ |
শ্রমিক দলের দুই গ্রুপ |
| বর্তমান অবস্থা |
তদন্তাধীন, আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী |
পুলিশ তদন্ত করছে |
সার্বিক পরিস্থিতি
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সিএনজি স্ট্যান্ড ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়ের দ্বন্দ্বই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। তারা মনে করছেন, প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হলে এ ধরনের সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সাধারণ শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও জীবিকার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ময়মনসিংহের এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় সংঘর্ষ নয়, বরং পরিবহন খাতে নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।