খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
ঢাকা সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এফ এম মোবারক হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, কলেজের স্থাপনায় হামলা হওয়ার সময় পাশেই পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশ যদি সময়মতো পদক্ষেপ নিত, তাহলে কলেজের ভাঙচুর রোধ করা সম্ভব হত। তিনি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মোবারক হোসেন বলেন, ‘আজকে আমি দেখেছি, যখন আমাদের কলেজে হামলা হয়, থানা প্রশাসনের প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন পুলিশ সদস্য পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। যদি তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিত, তাহলে আমাদের কলেজে এই ধরনের ভাঙচুর হত না।’
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা সিটি কলেজের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘অত্র এলাকার জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব থানা-পুলিশের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়, এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।’
হামলা এবং সংঘর্ষের ব্যাপারে তিনি বলেন, গত সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তারা আশ্বস্ত করেন যে, তাদের শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের গন্ডগোল করবে না। তবে, হঠাৎ করেই সকাল ১১টায় কিছু দুষ্কৃতকারী ঢাকা সিটি কলেজের স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে এবং কিছু স্থাপনা খুলে নেয়।
মোবারক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, রমজানের আগে একই ধরনের হামলা ঢাকা সিটি কলেজের স্থাপনায় ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘এটি একেবারে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপার, যা বড় আকার ধারণ করছে।’
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের জবাবে মোবারক হোসেন বলেন, ‘এখানে ঢাকা সিটি কলেজে ১২ হাজার শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজে ৭-৮ হাজার এবং আইডিয়াল কলেজে ৫-৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এভাবে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনা এখানে। তারা রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে থাকে, গল্পগুজব করে এবং বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে একে অপরকে কটাক্ষ করে। এর ফলে এক-দুইটা মারামারি হয়, যা শেষ পর্যন্ত বড় আকার ধারণ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে মিলে চেষ্টা করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য, তবে এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন। কিছুদিন আগে প্রশাসন এই ধরনের ঘটনায় দু-একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিন্তু সেসব পরিপ্রেক্ষিতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।’
এ ছাড়া, তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা বা সংঘর্ষ বন্ধ করা যায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিরাপদ রাখা যায়।
খবরওয়ালা/আরডি