সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি আইফোনকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম সাজিদুল ইসলাম মুন্না। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার দেলুটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আলোচিত ইমন আহমদ হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানাধীন কদমতলী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাজিদুল ইসলাম মুন্নাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই আসামি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইমন আহমদ বিয়ানীবাজার থানাধীন খশির নামনগর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে না আসায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের কয়েক দিন পর তদন্তে নতুন মোড় নেয়, যখন এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তদন্ত চলাকালে ওই ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইমনকে শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ইমনের হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। একই সময় তার ব্যবহৃত আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
পরবর্তীতে ১০ ডিসেম্বর শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুর থেকে ইমনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের ভাই বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে একই মামলায় আশরাফুল নামের একজনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ সাজিদুল ইসলাম মুন্নার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, একটি দামি আইফোনকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্বের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। ব্যক্তিগত লোভ ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতার ভয়াবহ পরিণতির উদাহরণ হিসেবে এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | ইমন আহমদ |
| নিখোঁজের তারিখ | ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| লাশ উদ্ধারের তারিখ | ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| হত্যার স্থান | শালেশ্বর, শেওলা ইউনিয়ন |
| ব্যবহৃত ফোন | আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স |
| গ্রেপ্তার আসামি | সাজিদুল ইসলাম মুন্না |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪ |
এই হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করে, সামান্য লোভ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ কীভাবে ভয়াবহ অপরাধে রূপ নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।