খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে নির্যাতনে রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্ত হওয়া উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রায় ৫৭ মাস কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিন আদেশে তিনি রবিবার (১০ আগস্ট) রাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পান।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে চার্জশিটভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে চারজন জামিনে মুক্তি পেলেন। বর্তমানে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী কারাগারে আছেন এবং সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান পলাতক রয়েছেন বলে আদালতের সেরেস্তাদার কৃপা সিন্দু জানিয়েছেন।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ডেপুটি জেলার মনিরুল হাসান জানান, উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত হয়ে জামিনের কাগজ রোববার তাঁদের কাছে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ৮টার দিকে আকবরকে মুক্তি দেওয়া হয়।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর কাষ্টঘর এলাকা থেকে রায়হান আহমদকে তুলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পরদিন সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। প্রথমে পুলিশ দাবি করেছিল, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগের পর তদন্তে ফাঁড়িতে নির্যাতনের তথ্য বেরিয়ে আসে, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। মামলার তদন্তভার পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই প্রথমে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রধান আসামি আকবর ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান এবং ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের দনা সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৫৭ মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেন।
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে আকবর ছাড়াও এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। নোমান বর্তমানে ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থান করছেন। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয় এবং একই বছরের ১১ মে বাদী তাহমিনা আক্তার তান্নী প্রথম সাক্ষ্য দেন। ইতোমধ্যে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন