খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
থাইল্যান্ডের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি এলিভেটেড হাইওয়ে নির্মাণাধীন এলাকায় ক্রেন ভেঙে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ঠিক একদিন আগে বুধবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীনের সহায়তায় নির্মিত একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পে ক্রেন দুর্ঘটনায় আরও ৩২ জন নিহত হন। সব মিলিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটিতে ক্রেন সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ব্যাংককের পার্শ্ববর্তী সামুত সাখোন প্রদেশের রামা টু এক্সপ্রেসওয়েতে, যা প্যারিস ইন গার্ডেন হোটেলের সামনে অবস্থিত। একটি উঁচু সড়ক (এলিভেটেড হাইওয়ে) নির্মাণের সময় সেখানে ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির একটি ক্রেন হঠাৎ ভেঙে নিচের ব্যস্ত সড়কের ওপর পড়ে। স্থানীয় পুলিশ সুপার কর্নেল সিত্তিপর্ন কাসি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজন প্রাণ হারান এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে চারদিকে ধুলোর আস্তরণ এবং ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, এক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান—‘ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট’ (ITD)।
বুধবার নাখোন রাচাসিমা প্রদেশে উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি ক্রেন চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লে ৩২ জন যাত্রী প্রাণ হারান। ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনাস্থল রামা টু এক্সপ্রেসওয়েটি স্থানীয়দের কাছে অনেক আগে থেকেই ‘ডেথ রোড’ বা মৃত্যু সড়ক হিসেবে পরিচিত। অতীতেও এই সড়কে একাধিক নির্মাণাধীন অবকাঠামো ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
দুটি দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | স্থান | প্রকল্পের ধরণ | নির্মাণ প্রতিষ্ঠান | নিহতের সংখ্যা |
| ১৪ জানুয়ারি | নাখোন রাচাসিমা প্রদেশ | উচ্চগতির রেল প্রকল্প | ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট | ৩২ জন |
| ১৫ জানুয়ারি | সামুত সাখোন (রামা ২) | এলিভেটেড হাইওয়ে | ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট | ০২ জন |
| মোট | — | — | — | ৩৪ জন |
টানা দুটি বড় দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পরিবহনমন্ত্রী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নির্মাণাধীন এলাকায় নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছেন। সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বুধবারের রেল দুর্ঘটনায় ক্রেনটি চলন্ত ট্রেনের ওপর পড়ায় বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে গিয়েছিল, যা উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছিল।
থাইল্যান্ডের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তার অভাব এবং একই প্রতিষ্ঠানের বারবার গাফিলতি এখন জাতীয় বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছেন।