খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫
জুলাই মাসে সুন্দরবনে বনরক্ষীদের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়েছে ৭০ জন অভিযুক্ত। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ এবং জব্দ করা হয়েছে ১৪৮টি মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা। আটক সবাইকে আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রবেশ নিষিদ্ধ পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরা পড়েন।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত জুন থেকে পূর্ব সুন্দরবনে হরিণসহ বন্যপ্রাণী পাচার ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। এসব অভিযানে শুধু শিকারি ধরাই নয়, উদ্ধার হয়েছে অসংখ্য মালা ফাঁদ, নৌকা, ট্রলার, কাঁকড়া ধরার চারু, কীটনাশক ও চিংড়ি শুঁটকি।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বন বিভাগ গত ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে প্রবেশ ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞা উঠবে ১ সেপ্টেম্বর। তবে কিছু জেলে বনরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ ধরছেন।
এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গত জুলাই মাসে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৫৮টি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দুবলারচর, কচিখালী, শেলারচর, কটকা, কোকিলমনি, চরাপুটিয়া, আন্ধারমানিকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জব্দ করা হয় ১৪৮টি মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা। গ্রেপ্তার হয় ৭০ জন জেলে, যদিও অনেকেই বনাঞ্চলে পালিয়ে যায়। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে ৪৩টি মামলা হয়, যেখানে আসামির সংখ্যা ১৩৪ জন।
শুধু জুলাইয়ের অভিযানে উদ্ধার হয়—১৩ হাজার ৫৯৮ ফুট মালা ফাঁদ, ২০টি ছিটকা ফাঁদ, ৮২ হাজার মিটার অবৈধ জাল, ১৩ বোতল কীটনাশক, ৩১০ কেজি বিষমিশ্রিত মাছ, ২২ বস্তা শুঁটকি মাছ, ৩৭৫ কেজি কাঁকড়া এবং ১ হাজার ২৮০টি নিষিদ্ধ কাঁকড়া ধরার চারু।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, ‘জুন থেকে চলমান অভিযানে ভালো সাফল্য মিলছে। ইতিমধ্যে অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে অসংখ্য হরিণ ধরার ফাঁদ। এর ফলে অনেক হরিণ রক্ষা পেয়েছে।’ তিনি সুন্দরবন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
খবরওয়ালা/এন