খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা হলে স্বাধীন দেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেকোনো মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৪ মে) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘কোনোভাবেই যেন আমাদের এই গর্বের প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনী কোনো কার্যক্রম বা মন্তব্যের মাধ্যমে বিতর্কিত না হয়—এটাই আমরা চাই। এ বিষয়ে সকলকে সংবেদনশীল হওয়া উচিত।’
দেশ বর্তমানে একটি ‘বিশেষ পরিস্থিতি’র মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সংঘাত ও কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে দিয়ে জাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সমুচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থার অবসানে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।’ এজন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সমস্যা যত বড়ই হোক, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। আমরা সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বদলীয় আলোচনার টেবিলে বসার অনুরোধ জানিয়েছি।’
নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘সংস্কারের একটি রূপরেখা এবং নির্বাচনের একটি রোডম্যাপের কথা আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি। কিন্তু এখনো তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত এ দুটি বিষয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করুন। তাহলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে।’
মানবিক করিডর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, ‘মানবিক করিডরের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অথবা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই সমীচীন হবে।’
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ নির্ভর করে এই বন্দরের ওপর। এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে হবে।’
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের যে টাইমলাইন দিয়েছেন, আমরা শুরু থেকেই তা মেনে নিয়েছি। জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’ পাশাপাশি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকেও অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এই অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
খবরওয়ালা/এন