খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছিল, তা কি সত্যে পরিণত হতে যাচ্ছে? আজ দ্বীপবাসীর জিজ্ঞাসা এটিই। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ঘিরে শুরু হয়েছে একের পর এক টালবাহানা। বাংলাদেশের ভূখণ্ড হয়েও সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বাস্তবে দ্বীপবাসী ছাড়া আর কেউ সেন্টমার্টিনে যেতে পারছেন না।
গত বছর পর্যটন মৌসুমের মাঝপথে পরিবেশ রক্ষার নামে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় পর্যটক যাতায়াত। তারপর থেকেই দ্বীপবাসী মারাত্মক ক্ষতির শিকার। চলতি বর্ষায় একদিকে দ্বীপজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন, অন্যদিকে চরম দুর্ভিক্ষ দ্বীপবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সেন্টমার্টিন ছিল দেশের মানুষের আনন্দ–উচ্ছ্বাসের জায়গা, লাখো দেশি–বিদেশি পর্যটকের স্বপ্নের ঠিকানা। সেখানে গড়ে উঠেছিল হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, ব্যবসা-বাণিজ্য। আধুনিক জাহাজে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমাত। এর মাধ্যমে বদলে যাচ্ছিল দ্বীপবাসীর ভাগ্যচাকা। অথচ সরকারের হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় সব ধ্বংস হয়ে গেছে। দ্বীপের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
এখন পরিস্থিতি এতটাই অমানবিক যে দ্বীপের বাসিন্দাদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেদের এলাকায় ঢুকতে হচ্ছে। পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি— সেন্টমার্টিনে এ ধরনের কড়াকড়ি কখনোই ছিল না। ফলে গুজব ছড়িয়েছে, দ্বীপটি আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য খালি করা হচ্ছে। দ্বীপবাসীরাও আতঙ্কে আছেন, তারা বলছেন— এই গুজবের কিছু আলামত এখন প্রকাশ পাচ্ছে।
সরকার দাবি করছে, দ্বীপের পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও প্রবাল রক্ষায় মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দ্বীপবাসীকে পর্যটন থেকে বঞ্চিত করে দুর্ভিক্ষে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দ্বীপের চারপাশ রক্ষায় কোনো বাঁধ নির্মাণ না করায় এবার জলোচ্ছ্বাস পুরো দ্বীপকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। অথচ ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকেই দ্বীপে ভাঙন চলছে, তখন থেকেই বেড়িবাঁধের দাবি থাকলেও আজ পর্যন্ত সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং অপরিকল্পিত রিসোর্ট, হোটেল গড়ে উঠতে দিয়ে সৈকতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এবারের মতো ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস তারা জীবনে দেখেননি। তারা আতঙ্কে আছেন, অদূর ভবিষ্যতে দ্বীপে মানুষ টিকে থাকতে পারবে কি না। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করলে সেন্টমার্টিন একদিন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে।
তবুও টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন দাবি করেছেন, লিখিত কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, কেবল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘অধিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, কর্মসংস্থানের বদলে সরকার তাদের বেকারত্ব, দুর্ভিক্ষ আর ভাঙনের কাছে ঠেলে দিয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড