খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
আফ্রিকা মহাদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ইসরায়েল। এই সিদ্ধান্তের পরপরই দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই স্বীকৃতি মূলত ‘আব্রাহাম চুক্তির’ চেতনার একটি বর্ধিত রূপ। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইসরায়েলের সাথে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সোমালিল্যান্ডের এই স্বীকৃতি তারই ধারাবাহিকতা। সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সোমালিল্যান্ডের এই নতুন স্বীকৃতি এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| স্বীকৃতির মর্যাদা | আনুষ্ঠানিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা। |
| প্রথম স্বীকৃতিদাতা | ইসরায়েল (বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে)। |
| রাজনৈতিক কাঠামো | আব্রাহাম চুক্তির আলোকে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন। |
| কূটনৈতিক পদক্ষেপ | রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও স্থায়ী দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত। |
| কৌশলগত গুরুত্ব | লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার। |
| সহযোগিতার ক্ষেত্র | নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য। |
১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সোমালিল্যান্ড আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য লড়াই চালিয়ে আসছিল। নিজস্ব মুদ্রা, পতাকা এবং গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব সম্প্রদায় এতদিন একে সোমালিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করত। গত বছর প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনকে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেন। ইসরায়েলের এই ঘোষণা সোমালিল্যান্ডের জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও স্বীকৃতি দিতে উৎসাহিত করতে পারে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জানিয়েছেন, দুই দেশ ইতিমধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে এবং অবিলম্বে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁর মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোহিত সাগরের প্রবেশপথে সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে আফ্রিকার এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহিকে ইসরায়েল সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই নতুন মেরুকরণ হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।