সোহরাব ইফরান
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
১.
দেখা
‘গর্ব হও, ধুলো হও, স্বপ্ন হও, বাতাস হও; রাত্রি হও, অন্ধকার হও, ইচ্ছা হও, মন হও; এখন ফসকে যাও, এখন অদৃশ্য হয়ে যাও; ওপরে, নিচে, মাঝখানে।’ নীল গাইমান, কবরস্থানের বই।… বৃক্ষের ভিড়ে বৃক্ষের সমস্থানিকতা ছাড়াও, ময়ূরের অভিলাষে চৌচির তরুশাখা ঈষৎ প্রণাড়তা চেনে। উপত্যকার বাষ্পাকুল বন্দর রয়েছে, এরপর সেখানে আর উপত্যকার বাষ্পাকুল বন্দর নেই। এরপর সেখানে? মৃত আবাসিকতা গড়েছে পাহাড়। কখনো ফরেনসিক হয়ে ওঠা মহিষের মতন ঘাড় খুঁজে পরিভ্রমণ করে অলিভের বন। যদিও অরণ্য, এরূপ সিলিকন-ঢল; হৃদয়ে অরণ্য নয় যেন! কৌতূহলী দর্পণে রৌপ্যখণ্ডের মতো ভ্রুকুটি পাতা বৃক্ষটির দ্বিধার যোগী সুনিশ্চয়।
২.
প্রতিমায় চৈত্রকুরুশ
ছিল উষার আকাশ প্রাচীরের পারে; করবী ফুলের নিজের সবুজের ফাঁকে; থামভর্তি এথেনিক সবুজ অলংকার দোল। চারদিকে সাঁকো উঠে গেছে! শ্রান্ত তন্দ্রাচ্ছন্ন; দেহের বালিকণা ভেঙে চোখের কোণে, ধীর বিসর্জন এর ছায়াতে; আমারই মতো কে? আত্মঘাতী এক কোণে, কোহিনুর নিশিকৃষ্ণ। জলছবি তারে খোঁজে, বিদগ্ধ জোনাক সারা রাত। উপত্যকা ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছি কয়েক ধাপ; সমান্তরাল দেবীর কাছে, সিঁড়িতে গোধূলির আশ্রম-বিগলিত মোমের কার্নিশে; যখন ঘুম ঝরবে! বাতাসে নিকানো প্রাচীর, প্রপেলারের মতন যারা; দিক উন্মীলন উঁচু বৃক্ষের পরিধি; পায়রা সারা রাত। প্রকৃতি দেখার।
৩.
অধরা কার্নিশ
ভালোবাসলে টের পাওয়া যায়—কাকটার পায়ে কাদা লেগে আছে, দুরন্তর জল কোরকের পরে; সে এক গ্রাম রয়েছে ঘুমিয়ে। গীতল পালকের পাখিরা ডেকেছে; সে উড়ন্ত রেমিংটোন আকাশে। বৈচির মুকুট মাথায় গাছগুলো ধুলোয় জর্জরিত; আতরের কল ঘুরে চলে ওদের ভেতর! সুপ্ত ছিল ঘ্রাণ, আর ঘ্রাণে ক্লেদ বসন্ত; এরপর মেঘ ভাঙা দেয়াল কী করবে ফিরে? অন্ধকারে একে অপরকে ভুল সরণি দিয়েছে দেখিয়ে। রাত্রির প্রাচীন মনোযোগ গড়েনি তোমাকে যখন—পথের ভিত, ঘাসের উচ্চতা, কত ভূলুণ্ঠিত পথের যোজন দূর নেইক—ধরে যাচ্ছি!