খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই প্রথম সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়েবাহ তেল খনি লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সবগুলো ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় ব্যবহৃত মোট ছয়টি ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিও মাঝপথে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। ফলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শায়েবাহ তেলক্ষেত্র সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র। এটি সৌদি আরামকোর অধীনে পরিচালিত হয় এবং প্রতিদিন কয়েক লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এ ধরনের হামলার চেষ্টা শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিচে হামলার মূল ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| লক্ষ্যবস্তু | শায়েবাহ তেলক্ষেত্র, সৌদি আরব |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ৬টি ড্রোন |
| দ্বিতীয় লক্ষ্যবস্তু | প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র |
| ফলাফল | সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সব ধ্বংস |
এই হামলার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন আলোচনা চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। তবে সেই আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে ইরানের কয়েকটি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। একই সময়ে ইসরাইলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।