খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 9শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২২ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে ফাঁসাতে বন্ধু রাশেদুল ইসলামকে (৪০) গলা কেটে হত্যা করেন স্বামী সেলিম হোসেন(৩৮)। সোমবার (২১ এপ্রিল) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (৪০) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর সদরের ওয়াপদাবাঁধ এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি পেশায় পিকআপ ভ্যানের চালক ছিলেন। আসামি সেলিম হোসেন পৌর এলাকার আসানবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা।
জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন পিকআপ চালক রাশিদুল ইসলাম। শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে তাড়াশ পৌরসভার আসানবাড়ি এলাকার এক ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ রাশিদুলের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ক্লুলেস এই হত্যা মামলার তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আসানবাড়ি গ্রামের মৃত সামছুল হোসেনের ছেলে ও রাশেদুল ইসলামের বন্ধু মো. সেলিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধযুক্ত স্পিড বোতল, ক্লেমনের বোতল, মানিব্যাগ, রাশিদুলের মোবাইল ও একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করেছে। পরে সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, সেলিমের স্ত্রী শেরজা খাতুন আব্দুল আউয়াল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। কিন্তু তালাক না হওয়ায় স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া ছিলেন তিনি। এই কারণে আউয়ালের প্রতি ক্ষোভ জমতে থাকে তার। স্ত্রী শেরজার ব্যাগে আউয়ালের একটি মানিব্যাগ, ছবি, সিমের কাগজ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি খুঁজে পান। তখনই পরিকল্পনা করেন, বন্ধু রাশেদুলকে হত্যা করে সেই মানিব্যাগ লাশের পাশে রেখে দিলে আউয়ালকে ফাঁসানো যাবে। তখন স্ত্রী ফিরে আসবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখের আগে সেলিম একটি মেমোরি কার্ড, ঘুমের ওষুধ ও বাংলা মদ সংগ্রহ করেন। ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাশিদুলকে মদ খাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ধানক্ষেতে নিয়ে যান। কোমল পানীয়ের বোতলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খেতে দেন। কিছুক্ষণ পর রাশেদুল অচেতন হলে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। লাশ ফেলে রেখে বাড়ি ফিরে যান। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধযুক্ত স্পিড বোতল, পানীয়র বোতল, মানিব্যাগ, রাশিদুলের মোবাইল ও একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করে।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, স্ত্রীর প্রেমিককে ফাঁসাতে বন্ধু রাশেদুলকে হত্যা করেন সেলিম। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
খবরওয়ালা/এসআর