খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন স্বামী। পথিমধ্যে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান স্ত্রী। দিশেহারা স্বামী আশপাশে মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে নিরুপায় হয়ে চলন্ত বাইকে স্ত্রীর নিথর দেহ বেঁধে বাড়ি ফিরেছিলেন।
সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মর্মান্তিক এই ভিডিওটি দেখে যে কারও এটিকে সিনেমার কাহিনি মনে হতে পারে। কিন্তু এটি কোনো কাল্পনিক কাহিনি নয়—ভারতের নাগপুর-মধ্যপ্রদেশ হাইওয়ের দেওলাপার এলাকায় বাস্তবেই ঘটেছে ঘটনাটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে নাগপুরের লোনারা থেকে মধ্যপ্রদেশের কারানপুর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন অমিত বুমরা যাদব (৩৬) ও তাঁর স্ত্রী জ্ঞ্যায়ার্সি যাদব (৩৫)। দেওলাপারের কাছে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে জ্ঞ্যায়ার্সি রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং ট্রাকটি তাঁকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অমিত নিজেও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর অমিত পথচারীদের কাছে সাহায্য চেয়ে চিৎকার করলেও, ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো গাড়ি থামেনি। কোনো উপায় না দেখে তিনি স্ত্রীর মৃতদেহ মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে লোনারার দিকে ফিরে আসেন।
হাইওয়ের একটি বনাঞ্চলে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দেওলাপার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কোনো যানবাহন বা আহত ব্যক্তিকে খুঁজে পায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে পুলিশ অমিতকে শনাক্ত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা অমিতকে খুমারি টোল প্লাজার কাছে থামানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি থামেননি। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে থামায়।
নাগপুর গ্রামীণ অঞ্চলের পুলিশ সুপার হর্স এ পোদ্দার জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাগপুরের ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হবে।
খবরওয়ালা/এসআই