খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের সর্বোচ্চ সংসদীয় কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদে কে বসবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।
| প্রার্থী | রাজনৈতিক দায়িত্ব | নির্বাচনী এলাকা | গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা |
|---|---|---|---|
| অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন | বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান | – | সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আইন অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইনে পারদর্শী, রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় |
| ড. আবদুল মঈন খান | বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য | নরসিংদী-২ | চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা, পরিবারের রাজনৈতিক পরিচিতি |
দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে স্পিকার পদে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের সুপ্রিম কোর্টে বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যুক্ত এবং জনস্বার্থ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।
অন্যদিকে ড. আবদুল মঈন খানের ব্যাপক সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুপরিচিতি তাঁকে স্পিকার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত করছে। তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং নরসিংদী-২ আসনে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তাঁর বাবাও সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংসদ সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এই পদে দায়িত্ব পালনকারীকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা, রুলিং প্রদান এবং বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের ভূমিকা কার্যকর হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদীয় সমীকরণ ও দলীয় কৌশলের ওপর নির্ভর করবে।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু এবারে তা ব্যতীত সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। রাজনৈতিক মহলে আশা করা হচ্ছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি স্পিকারের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে, যা নতুন সংসদের কার্যক্রমের জন্য দিকনির্দেশক হবে।
এই প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আলোচনা দেশজুড়ে চলছে, যেখানে জনগণ স্পিকারের নির্বাচনে ন্যায্যতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার দিকে নজর রাখছে।