খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ব্যাটিং-বান্ধব নয়, এমন এক উইকেট টসে শুরুর মুহূর্তেই দুই অধিনায়কই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—১৬০ রানের বেশি করা কঠিন হতে চলেছে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা ইনিংসের প্রথম ভাগে বেশ ইতিবাচক ছিল। ওপেনার কামিল মিশারার ব্যাটে ভর করে তারা ১৬০–১৭০ রানের লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় পাকিস্তানের ত্রিমূর্তি স্পিন আক্রমণ।
ইনিংসের সঙ্গতি ভেঙে পড়ে মাঝের ওভারগুলোতে। পাকিস্তানের স্পিনাররা এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং উপহার দেন যে শ্রীলঙ্কা হঠাৎই ব্যাকফুটে চলে যায়। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো—কেবল ১৭ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন আবরার আহমেদ (২ উইকেট) ও সাইম আইয়ুব (১ উইকেট)। এই ত্রয়ী ১২ ওভার বোলিং করে দেন মাত্র ৫২ রান, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কার্যত ম্যাচ–নিয়ন্ত্রণকারী পরিসংখ্যান। শেষ পর্যন্ত বাজে শট নির্বাচন ও স্পিন বুঝে উঠতে না পারার কারণে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।
টার্গেট ১১৫—কাগজে-কলমে ছোট হলেও মাঠে ছিল ধীরগতির উইকেট, যার প্রমাণ পাওয়া যায় পাকিস্তানের ব্যাটিংয়েও। দুটি ভালো ওপেনিং পার্টনারশিপের পর মাঝের ওভারে খানিক চাপ তৈরি হয়, যখন শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা তাল কেটে দেন। পাভান রত্নানায়েকে ২ উইকেট ও হাসারাঙ্গা একটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে লড়াই ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে অভিজ্ঞ বাবর আজম পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক ব্যাটিংয়ে ঝুঁকি কমিয়ে খেলেন। তাঁর অপরাজিত ৩৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংস দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। শেষতক ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান শিরোপা নিশ্চিত করে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেওয়াজ জানান, উইকেটে স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকায় তিনি পরিকল্পনামাফিক লাইন–লেংথে স্থির ছিলেন। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার একমাত্র উজ্জ্বল দিক ছিল মিশারার ৪৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। কিন্তু দলীয় ব্যর্থতা ঢাকতে তা যথেষ্ট হয়নি।