খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
সদ্য শেষ হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
ঐক্য পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৯৩টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, পূজারি ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে কথিতমতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগের অজুহাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের গত ৫ অক্টোবরের ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের ও রাষ্ট্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য এবং উদ্যোগ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে, যা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নিপীড়নের মুখে ফেলতে পারে।
ঐক্য পরিষদ বলেছে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অবয়ব ব্যবহার করে আসছেন, যা এই বছরেও ব্যতিক্রম নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সনাতনীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এক বক্তব্য দেন, যেটাকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায়। সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই সময় প্রতিবাদও করা হয়েছিল।
ঐক্য পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিশেষ তকমা দিয়ে আইনকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তমনা ও মানবিক সামাজিক শক্তিকে এর বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
খবরওয়ালা/এমইউ