খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৮ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি টানলেন এই সংগঠনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। গত বুধবার কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তিনি। রাতে ফেসবুকে দেয়া আত্মসমালোচনামূলক একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণে এই প্ল্যাটফর্মে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ আর ছিল না।
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর অসমাপ্ত কাজের দায়বদ্ধতা থেকে আমি বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু খুব দ্রুত বুঝতে পারি, দলীয় ভবিষ্যৎ রক্ষার নামে এই ব্যানারকে নিয়ন্ত্রণের এক ভয়াবহ খেলা চলছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যানারটিকে সক্রিয় করার প্রয়াসে তিনি একপ্রকার ‘গুডউইল’ থেকেই উদ্যোগ নিলেও, তাকে রাজনৈতিক হুমকি, মানসিক চাপ এবং অনলাইন–অফলাইন আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। “যাদের সঙ্গে একসাথে মিছিল করেছি, তারাই জুনিয়রদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়েছে,”—বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মটি সময়ের সঙ্গে এক ‘বদ্ধ জলাশয়’-এ রূপ নিয়েছে, যেখানে “ভাই-ব্রাদার কোরাম” ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। শাখা কমিটিতে কিছু ভালো মানুষ থাকলেও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সুবিধাবাদীদের হাতে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
মার্চ-এপ্রিল মাসে প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও জানান। “রাতে পদ নিয়ে দরকষাকষি, দিনে জনসেবার বুলি—এই দ্বিচারিতা আমাকে বিচলিত করেছে। কোনোদিন ভাবিনি, শহীদদের রক্তে স্নাত একটি আন্দোলনকে এভাবে পঁচিয়ে ফেলা হবে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুখপাত্র হয়েও তাকে প্ল্যাটফর্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো মার্চে তার বিরুদ্ধেই পেইজ থেকে পোস্ট করা হয়। তার দাবি, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গঠিত কমিটিগুলো নিয়ে তিনি স্পষ্ট আপত্তি জানালেও, তা উপেক্ষা করা হয়।
কাউন্সিলের ভোটপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার ভাষায়, “ভোটার সংখ্যা ছিল সীমিত এবং বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য। তবুও শেষ মুহূর্তে ভোট দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম কিছু ভালো হবে।” কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখেন, যিনি নির্বাচনেই অংশ নেননি, তিনিই কাউন্সিল মেম্বার হয়েছেন।
তিনি জানান, প্ল্যাটফর্ম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও এপ্রিল-মে মাসেই কার্যত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এখন থেকে সব ধরনের সমর্থন ও দেওয়া ভোট প্রত্যাহার করছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা অভ্যুত্থানকে পণ্য করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, আমি তাদের কখনো ক্ষমা করব না। আমি রুহ থেকে বদদোয়া দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মে অনেক ভালো মেয়ে-ছেলে ছিল, যারা দেশের জন্য কিছু করতে এসেছিল। আমি সবাইকে বলব—পড়াশোনায় মনোযোগ দিন, নিজের কাজ করুন। আমি নিজেও গুছিয়ে নিতে চাই সবকিছু।
খবরওয়ালা/ এমএজেড