খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলের তাই পো এলাকায় কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবনে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৪৫ জন। এছাড়া এখনো ২৭৯ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘হত্যার’ অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে দুজন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং একজন প্রকৌশল পরামর্শক।
যদিও আগুনের কারণ তদন্তাধীন, পুলিশ জানিয়েছে—ঘটনাস্থলে সংস্কার কাজ চলছিল এবং জানালাগুলোতে পলিস্টাইরিন বোর্ড লাগানো ছিল। এগুলো আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, আগুন খুব দ্রুত পাশের ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে যায়, যার একটি কারণ ছিল বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং। তদন্তে ভবনের বাইরে এমন জাল ও সুরক্ষা সামগ্রী পাওয়া গেছে, যেগুলো আগুন প্রতিরোধক বলে মনে হয়নি। পাশাপাশি জানালাগুলোতে স্টাইরোফোমও পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরের সকালেও টাওয়ার ব্লকের কিছু অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আটটি ভবনের মধ্যে চারটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদিন লেগে যেতে পারে।
এদিকে শত শত বাসিন্দাকে সরিয়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। যাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন, তাদের জন্য জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হংকং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট আগুনটিকে লেভেল-ফাইভ অ্যালার্ম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, যা সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর। হংকংয়ে সর্বশেষ এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল ১৭ বছর আগে।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কাছে এমন প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা চরম অবহেলা করেছেন। তাদের অবহেলার কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/টিএসএন