খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধে এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে ড্রোন। যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনা ও তাদের সরঞ্জামের ওপর নির্ভুল ড্রোন হামলার ভিডিও এখন শুধু প্রচারণার উপকরণ নয়, বরং হয়ে উঠেছে যুদ্ধকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই ভিডিও বিশ্লেষণ করে তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে বিশেষ পয়েন্ট—আর সেই পয়েন্টের ভিত্তিতেই পুরস্কার পাচ্ছেন ইউক্রেনীয় সেনারা।
২০২৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘আর্মি অব ড্রোনস: বোনাস’ প্রকল্প, যা ‘ই-পয়েন্টস’ নামেও পরিচিত, এখন রীতিমতো গেমের আদলে একটি বাস্তব যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন সরকারের ব্রেভ ওয়ান নামের একটি প্রযুক্তি দল জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে যে শত্রুপক্ষকে যত বেশি ধ্বংস করা যাবে, সেই অনুযায়ী পয়েন্ট বাড়বে। যেমন, একটি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করতে পারলে ৫০ পয়েন্ট, একটি ট্যাংক ধ্বংসে ৪০, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করলে ২০ পয়েন্ট মিলছে।
এই পয়েন্টের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ধারণাটি অনেকটা ভিডিও গেম ‘কল অব ডিউটি’র কিলস্ট্রিকের মতো। তবে এখানকার বাস্তবতা রক্তমাখা—সেটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কিয়েভে বসে ভিডিও বিশ্লেষণের দৃশ্যপটে। সেখানেই নির্ধারিত হয় কোন সেনা বা ইউনিট কত পয়েন্ট পাবে।
এই উদ্যোগের অন্যতম নেপথ্য কারিগর ইউক্রেনের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনমন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। তাঁর ভাষায়, ‘এই প্রকল্পটি তথ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপূরণে সহায়ক। এটি এক ধরনের যুদ্ধের অঙ্ক, যেখানে সীমিত সম্পদ সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়।’
তবে শুধু পরিসংখ্যান নয়, এই ‘ই-পয়েন্টস’ যুদ্ধের ক্লান্ত সেনাদের মানসিক অনুপ্রেরণাও জোগাচ্ছে বলে মনে করেন ফেদোরভ। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা পয়েন্টের মান পরিবর্তন করি, তখন যোদ্ধাদের আচরণেও পরিবর্তন দেখি। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।’
ফেদোরভের দপ্তরে থাকা বড় স্ক্রিনে প্রতিনিয়ত লাইভ ভিডিও ফুটেজে নজর রাখা হচ্ছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে—ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় ড্রোন কীভাবে রুশ বাহিনীর ওপর আঘাত হানছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, এখন রাশিয়ার সেনা হতাহতের অন্তত ৭০ শতাংশই এই ড্রোন আক্রমণের ফল।
এই প্রকল্পের প্রভাব কেমন, তা জানতে বিবিসি কথা বলেছে ইউক্রেনের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে। ১০৮তম টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেডের সেনা ভলোদিমির বলেন, ‘এই প্রকল্প সরঞ্জামের ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করছে এবং আমাদের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।’
একইসঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ২২তম মেকানাইজড ব্রিগেডের সেনা জ্যাক বলেন, ‘এই প্রকল্প আমাদের ক্লান্ত সৈনিকদের জন্য নতুন উদ্দীপনা তৈরি করছে। তারা এখন পুরস্কারের জন্য লড়াই করছে।’
তবে সবার মত এক নয়। কেউ কেউ মনে করছেন, পয়েন্ট দিয়ে প্রেরণা তৈরি করা বা পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো বাস্তবে ততটা কার্যকর নয়। সেনা স্নেক বলেন, ‘শুধু পয়েন্টে সেনাদের ঠেকানো যাবে না।’ আরেক সেনা দিমিত্রোর মতে, ‘এই প্রকল্প আমাদের বিকৃত মনোভাবের প্রতিফলন—যেখানে আমরা মৃত্যুকেও মূল্যায়নের অঙ্কে ফেলতে চাই।’
খবরওয়ালা/এন