খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আগামীকাল সোমবার (২৩ মার্চ) বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল জুলফিকার ইসলাম জিল্লুরের (২৬)। চারপাশে উৎসবের আনন্দ, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি—সবকিছু চলছিল স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু রোববার (২২ মার্চ) সকালে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গড়মাটি কলোনি এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তে সব আনন্দকে রূপান্তরিত করে বিষাদে। বোনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, আর ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
নিহত জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের আনছারুল হক মুন্সীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার ও সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করেছেন।
নাটোর বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, জুলফিকার তার বড় ভাই রফিকুল ইসলামের প্রাইভেটকার নিজেই চালিয়ে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বিয়ের দাওয়াতের জন্য রওনা দেওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর |
| বয়স | ২৬ |
| পিতা | আনছারুল হক মুন্সী |
| জেলা/উপজেলা | পাবনা, ঈশ্বরদী, নওদাপাড়া |
| পেশা | প্রকৌশলী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ২২ মার্চ ২০২৬, সকাল |
| দুর্ঘটনার স্থান | নাটোর-পাবনা মহাসড়ক, গড়মাটি কলোনি |
| দুর্ঘটনার ধরন | প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা |
নিহতের পরিবারের সঙ্গে পুরো এলাকাটি শোকাহত। বোনের বাড়িতে বিয়ের শেষ প্রস্তুতি চলছিল, যা এক মুহূর্তে থমকে যায়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জুলফিকার ছিল পরিশ্রমী, বন্ধুবৎসল এবং দায়িত্বশীল। তার আকস্মিক মৃত্যু পুরো পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নাটোর-পাবনা মহাসড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিয়ের আগের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক শোক ও সমবেদনার সৃষ্টি করেছে। নিহতের সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা তার পরিবারকে মানসিক সমর্থন প্রদান করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসন দুর্ঘটনার তদন্ত ও রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে দৃষ্টি রাখছে।
জুলফিকারের আকস্মিক মৃত্যু এই পরিবারের জন্য একটি অমোচনীয় ক্ষতি। বিয়ের আগের এই দুর্ঘটনা সমাজের সবাইকে সতর্ক করে যে, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকা কতটা জরুরি।