খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
হংকংয়ের বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা চিকিৎসা বিমা পণ্যের কাঠামো, ব্যয়-সাশ্রয়ীতা এবং ভোক্তা সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটির নীতি ও আইন বিভাগীয় নির্বাহী পরিচালক ক্লেমেন্ট লাউ জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে বিদ্যমান বিমা পণ্যের গঠন, মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা এবং সুরক্ষা কাঠামো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে একটি অধিকতর কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তিনি ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য বিমা বিষয়ক একুশতম এশীয় সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে বিমা বাজারে পণ্যের গঠন, প্রিমিয়াম নির্ধারণ পদ্ধতি, সুরক্ষার পরিধি এবং চিকিৎসা ব্যয়ের প্রভাব আরও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
বিমা কর্তৃপক্ষ প্রথম ধাপে এমন পণ্যগুলোর ওপর গুরুত্ব দেবে, যেগুলো অধিকাংশ পলিসিধারীর জন্য প্রযোজ্য। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এসব পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিমা সেবাকে আরও গ্রহণযোগ্য ও টেকসই করা।
ক্লেমেন্ট লাউ আরও জানান, ভোক্তা সুরক্ষা এই সমগ্র পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজার আচরণ তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে বিমা গ্রাহকদের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা যায় এবং সেবাপ্রদানে ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়।
বিমা খাতের বিদ্যমান নির্দেশিকা একত্রিশ পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এই নির্দেশিকায় সহজলভ্যতা, ব্যয়-সাশ্রয়ীতা এবং গ্রাহকের প্রতি ন্যায্য আচরণের মানদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব মানদণ্ড আরও সুস্পষ্ট ও কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য আরও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করা হতে পারে, যা বিক্রয় কার্যক্রম, দাবি নিষ্পত্তি এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত করবে। এ ক্ষেত্রে পলিসিধারীদের মতামত এবং অন্যান্য দেশের বাজার অনুশীলনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
একই সময়ে দেওয়া পৃথক বক্তব্যে ক্লেমেন্ট লাউ হংকংয়ের স্বনির্ভর বিমা খাতের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, হংকংয়ের সাতটি স্বনির্ভর বিমা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে স্থিতিশীল ও সুসংহতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী স্বনির্ভর বিমা ব্যবস্থায় প্রিমিয়ামের পরিমাণ দুই শত বিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে চীন বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় আঠারো শতাংশের সমান অর্থনৈতিক অবদান রাখে।
স্বনির্ভর বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন একটি কাঠামো, যেখানে কোম্পানিগুলো নিজেদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় আন্ডাররাইটিং লাভ এবং বিনিয়োগ আয় একই কর্পোরেট ব্যবস্থার মধ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। এর ফলে নির্দিষ্ট ধরনের ঝুঁকি আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অতিরিক্ত সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।
পর্যালোচনার প্রধান দিকসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্ষেত্র | প্রধান লক্ষ্য |
|---|---|
| পণ্যের কাঠামো | অধিকাংশ গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য বিমা পণ্যের মানোন্নয়ন |
| ব্যয় নিয়ন্ত্রণ | প্রিমিয়াম আরও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রাখা |
| তথ্য বিশ্লেষণ | বাজার পরিস্থিতি নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন |
| ভোক্তা সুরক্ষা | গ্রাহকের অধিকার রক্ষা ও অভিযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন |
| বাজার তদারকি | বিক্রয় ও দাবি নিষ্পত্তিতে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা |
| নির্দেশিকা হালনাগাদ | নির্দেশিকা একত্রিশ আরও কার্যকর করা |