খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মার একটি শাখানদীতে বিশাল আকারের কুমির দেখা গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পদ্মার ঐ শাখা জলধারায় এলাকার একাধিক নারী-পুরুষ কুমিরটিকে প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলস্বরূপ, গ্রামের মানুষজন সেই খালে স্নান করা থেকে শুরু করে মৎস্যজীবীদের মাছ ধরা পর্যন্ত—সকল কাজেই ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি কুমির দেখা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর বংখুরি এবং হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া, বোয়ালী ও হারুকান্দি ইউনিয়নের কাশিয়াখালীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি সরু নদী পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। এই বর্ষা মরসুমে প্রত্যাশিত জলের অভাব থাকলেও এলাকাটি নিচু হওয়ায় নদীটি জলে ভরে আছে। প্রায় দশ দিন আগে প্রথম কুমিরটি নজরে এলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনেই এই খালে কুমির দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অনুমান, কুমিরগুলোর দৈর্ঘ্য সাত থেকে আট হাত লম্বা হতে পারে। তাঁদের ধারণা, বর্ষার জলের তোড়ে হয়তো পদ্মা নদী থেকেই এই সরু জলপথে কুমিরগুলো প্রবেশ করেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির কথায়, ধুলশুড়ার বোয়ালী এবং কাশিয়াখালী এলাকায় একাধিক কুমির দেখা যাওয়ায় মৎস্যজীবীরা মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া, নদী পাড়ের বাসিন্দারা প্রতিদিন গোসল, কাপড় পরিষ্কার সহ অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে এই খালের জল ব্যবহার করেন। কিন্তু কুমিরের ভয়ে বর্তমানে অনেকেই জলে নামার সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ঐ এলাকার শত শত পরিবার বিপাকে পড়েছে।
সদর উপজেলার চর বংখুরি গ্রামের মাজেদা আক্তার জানান, আজ সকালে জল আনতে গিয়ে হঠাৎ একটি কুমিরকে ঘাটের দিকে আসতে দেখেন তিনি। ভয়ে দৌড়ে দূরে সরে যান। পরে তিনি দেখেন যে, পাশের খালে ভেসে থাকা একটি হাঁসকে কুমিরটি ধরে নিয়ে চলে গেল।
বোয়ালী এলাকার মৎস্যজীবী আলমাস বলেন, কুমিরের আতঙ্কে আমাদের মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিতেই দেশের জল নেই বললেই চলে। যতটুকু আছে, তার মধ্য দিয়ে কিছু মাছ মেরে জীবনধারণ করব, তাও কুমিরের কারণে সম্ভব হচ্ছে না।
বড়ইচারা এলাকার নিতাই সরকার জানান, প্রায় দশ দিন ধরে কুমিরগুলো চোখে পড়ছে। এতে নদীর তীরের মানুষদের মধ্যে বেশ ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। মৎস্যজীবীরা ভয়ে অনেকটা মাছ ধরা থামিয়ে দিয়েছেন। এই কুমিরগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন রইল।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল হক বলেন, বিষয়টি আমি গতকাল জানতে পেরেছি। বন্যপ্রাণী হিসেবে এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের। বন বিভাগ যদি এই বিষয়ে আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, তবে আমরা তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফাহিজা বিসরাত জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। বন বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন