খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে কিশোর মুস্তাকিম হত্যার মামলার প্রধান আসামি মাসুম মিয়া ওরফে চায়না মাসুমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে আদালতে তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে গত রোববার দুপুরে (১৫ মার্চ) মাসুম মিয়া (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রায়পুরার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ গ্রামের মালেক মিয়ার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।
৪ ফেব্রুয়ারি, সকাল ছয়টার দিকে শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কিশোর মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। মুস্তাকিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সৌদিপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মা শাহানা বেগম রায়পুরা থানায় মাসুম মিয়া ও তাঁর বাবা মালেক মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সায়েদাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুটি পক্ষ সক্রিয় ছিল।
| পক্ষের নাম | নেতৃত্ব | সংঘর্ষে ভূমিকা |
|---|---|---|
| হানিফ মাস্টারের পক্ষ | হানিফ মাস্টার | প্রতিরোধকারী, সংঘর্ষে অংশগ্রহণ |
| এরশাদ মিয়ার পক্ষ | এরশাদ মিয়া | হামলাকারী, আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র ব্যবহার |
সংঘর্ষের সময় মুস্তাকিম বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরশাদের অনুসারীরা ছোড়া গুলির মধ্যে একটি তার বুকের বাঁ পাশে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাসুম মিয়া শ্রীমঙ্গলে আত্মগোপন করেছিল। রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ শিকদারের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রাতে তাকে রায়পুরা থানায় আনা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মাসুম মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় এলাকায় তীব্র সাড়া সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসন বলছে, আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে যাতে পুনরায় সংঘর্ষের সুযোগ না থাকে।
মামলার প্রধান আসামির গ্রেপ্তারের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশি নজরদারি ও গোপন তথ্য সংগ্রহের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।