খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৪ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পশ্চিম এশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য মাশুল বা ফি মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি।
মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জন্য এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান চায় বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো যেন কোনো অতিরিক্ত ব্যয় বা প্রশাসনিক বাধা ছাড়াই এই জলপথ ব্যবহার করতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এই নীতির পরিবর্তন হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নীতিমালা তদারকি করছে এবং কোন কোন দেশ এই সুবিধার আওতায় থাকবে, তা নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাশিয়া-এর নাম উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যে বিশেষত জ্বালানি পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশটি তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।
নিম্নে বিষয়টির প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী | ইরান সরকার |
| প্রযোজ্য এলাকা | হরমুজ প্রণালি |
| সুবিধার ধরন | জাহাজ চলাচলে মাশুল মওকুফ |
| সম্ভাব্য সুবিধাভোগী | রাশিয়াসহ ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশসমূহ |
| তদারকি কর্তৃপক্ষ | ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| প্রেক্ষাপট | আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা |
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একতরফা মাশুল ছাড়ের ঘোষণা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে ইরান কার্যত নির্ধারণ করছে কোন দেশ কী শর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করবে।
বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সিদ্ধান্ত জলপথটির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে মিত্র দেশের বাইরে অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।