খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে মাঘ ১৪৩২ | ২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। গত এক বছর ধরে বিচারকাজ থেকে অনুপস্থিত থাকা এই বিচারপতি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন। পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে। কানাডা থেকে তিনি নিজে এই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
জানা গেছে, বিচারপতি মামনুন রহমান বিনা ছুটিতে এক বছরের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার পদত্যাগের বিষয়টি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবেদন আকারে জানিয়েছে। এর আগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছিল, যা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন আর দায়িত্বে নেই। কেউ কেউ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের পর বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে গেছেন, কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, এবং অনেকে অবসরে চলে গেছেন। বাকি তিনজন বিচারপতি যদিও পদে থাকলেও বেঞ্চে বিচারকাজে নিয়োজিত নন।
এছাড়া, চলতি মাসে বিচারপতি এম আর হাসানকে অভিযোগের ভিত্তিতে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টে মোট ১৩ জন বিচারপতি ছুটিতে রয়েছেন। এর বাইরেও আরও দুইজন বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, যার একজন হলেন পদত্যাগ করা বিচারপতি মামনুন রহমান।
নিচের টেবিলে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বর্তমান অবস্থা সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিভাগ | মোট বিচারপতি | দায়িত্বে আছেন | ছুটিতে/অবসরে আছেন | স্বেচ্ছায় অনুপস্থিত | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| হাইকোর্ট | ১২ | ৩ | ৯ | ২ | পদত্যাগ, ছুটি ও অবসরসহ পরিস্থিতি জটিল |
| বর্তমানে ছুটিতে | – | – | ১৩ | – | অভিযোগ ভিত্তিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটি যুক্ত |
| বাকি কার্যরত | – | ৩ | – | – | বেঞ্চে কাজ করছেন না |
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতা বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। বিচারপতি পদত্যাগ ও ছুটির এই ধারা দেশের উচ্চ আদালতের কার্যকারিতায় অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই পদত্যাগ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আরও তদন্ত ও পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এবং রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিচারকাজের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।