খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সকালবেলার লালচে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদী থেকে মাছধরা মানুষজন খালুই ও ডালা কাঁধে নিয়ে ছুটে আসেন ওয়াপদা–কাশিমপুর হাটে। প্রায় অর্ধশত বছরের এই হাটে গত ২০–২২ বছর ধরে প্রতিদিন ভোরে দুই ঘণ্টার জন্য মাছের বাজার বসে। হাওর–নদীর তাজা মাছের কারণে হাটটির আলাদা সুনাম রয়েছে।
প্রতিদিন লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এখানে। ভোরবেলায় মৌলভীবাজার শহর ছাড়াও দূরদূরান্তের ক্রেতারা আসেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হাটে গিয়ে দেখা যায়, দুই পাশে বিক্রেতারা দ্রুত এসে আড়তে মাছ জমা দিচ্ছেন। নিলাম ডাক উঠতেই ক্রেতারা গোল হয়ে দাম বলেন, সর্বোচ্চ দাম বললেই মাছ বিক্রি হয়ে যায়। পরে বিক্রেতারা টাকা গুনে বাড়ির পথে বা অন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
হাটে নিজেদের খাওয়ার জন্য ক্রেতা থাকলেও বড় অংশই খুচরা বিক্রেতা। তাঁরা এখান থেকে মাছ কিনে বিভিন্ন গ্রামীণ হাটে বা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। মাছের মধ্যে রয়েছে কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা, কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চিংড়ি, চাঁদা ও স্থানীয় পুঁটা মাছসহ নানা প্রজাতি।
এখানে হাঁস–মোরগ, সবজি, পান–সিগারেট, চা–পরোটা–আখনির দোকানও রয়েছে। স্থানীয় আশিক মিয়া জানান, এই হাটে শুধু কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর মাছই বিক্রি হয়, একটাও চাষের মাছ আসে না। প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে আটটার মধ্যেই সব মাছ বিক্রি শেষ হয়ে যায়। হাটের আড়তদার আকলু মিয়া বলেন, দুই আড়তে প্রতিদিন লাখ টাকার বেশি মাছ বিক্রি হয়, আড়তের বাইরেও অনেক বেচাকেনা হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন