খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও তাদের সহযোগীরা এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এই সন্ত্রাসীদের অর্থায়নে কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও জড়িত।
সীমান্তবর্তী জেলার কয়েকটি উপজেলায় সহজেই অস্ত্র চোরাচালান হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৩ নভেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলার সড়াবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানের সময় মাসুদ নামের একজন পালিয়ে যায়। পরে তার বাড়ি থেকে একটি ভারতীয় পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পিস্তলে লেখা ছিল ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যাসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।
মাসুদের আশ্রয়দাতা কোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ। ১৯ ডিসেম্বর স্থানীয় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরে আলাউদ্দিন আল আজাদ ও পার্শ্ববর্তী জামাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছেন।
কালীগঞ্জের বড় তালিয়ান গ্রামের জুয়েল মোল্লা, পারিয়াট গ্রামের হারুন, সড়াবাড়ীয়া গ্রামের মাসুদ, ছোট তালিয়ান গ্রামের হাসিদুল এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের নেসমত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তারা ঝিনাইদহ-৪ সংসদীয় আসনের কোলা ও জামাল ইউনিয়নে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত বছরের ৯ নভেম্বর কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোয়ার হোসেন মোল্লাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরেরদিন সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলীকেও একইভাবে আহত করা হয়। সেই সময়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহম্মেদের বাড়িতেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ-৪ কারীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে।”
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, “একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি।”
| বিষয় | বিস্তারিত |
| এলাকা | কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ |
| সমস্যা | অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি |
| গ্রেপ্তার | মাসুদ হোসেন, আলাউদ্দিন আল আজাদ |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | ভারতীয় পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র |
| সন্ত্রাসীদের মূল এলাকা | কোলা ইউনিয়ন, জামাল ইউনিয়ন, বড় তালিয়ান, ছোট তালিয়ান, সড়াবাড়িয়া, রামচন্দ্রপুর |
| অতীত ঘটনা | ২০২৪ সালের ৯-১০ নভেম্বর প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাদের উপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | গোয়েন্দা টিমের অভিযান, জিরো টলারেন্স নীতি, গ্রেপ্তার কার্যক্রম |
| জনমনে প্রভাব | নিরাপত্তা উদ্বেগ, নির্বাচনী ভয় |