খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে পৌরসভার পশ্চিম ফটিকা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুন্নি আক্তার (১৭) নামের ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হাসান। তিনি জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্নি আক্তার হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাহাদুরের মেয়ে। পরিবারসহ তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম ফটিকা এলাকার ‘মা ম্যানশন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
বুধবার রাতে মুন্নি তার নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করার পর অনেক সময় ধরে বাইরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা বারবার দরজায় ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়দের সহায়তায় থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মুন্নির মরদেহ রয়েছে। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মুন্নি তার ছোট ভাইয়ের কাছে একটি ল্যাপটপ চেয়েছিল। কিন্তু ভাই সেটি দিতে না চাইলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর অভিমান করে মুন্নি নিজের কক্ষে চলে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ঘটনার জেরেই সে চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | মুন্নি আক্তার |
| বয়স | ১৭ বছর |
| পিতার নাম | মো. বাহাদুর |
| স্থায়ী ঠিকানা | গড়দুয়ারা ইউনিয়ন, হাটহাজারী |
| ঘটনাস্থল | পশ্চিম ফটিকা এলাকা, মা ম্যানশন ভাড়া বাসা |
| উদ্ধার সময় | ১১ মার্চ গভীর রাত |
| মরদেহের অবস্থা | সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত |
| আইনি পদক্ষেপ | অপমৃত্যু মামলা দায়ের |
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে তা ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুন্নি শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল এবং তাকে ঘিরে এর আগে কোনো ধরনের পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যা শোনা যায়নি। হঠাৎ এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক অবস্থা অনেক সময় খুব সংবেদনশীল থাকে। পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ বা ছোটখাটো পারিবারিক বিরোধ কখনো কখনো তাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের আরও সচেতন হওয়া এবং কিশোরদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।