খবরওয়ালা বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
দেশের পরিচিত নারী তারকাদের ফেসবুক পোস্টে হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সংখ্যা লেখা ছবি। হাতে, গালে বা শরীরের বিভিন্ন অংশে কেউ লিখেছেন ‘৯’, কেউ ‘২৪’, কেউ ‘১০০০’ বা ‘৯৯+’। এই সংখ্যাগুলোর মানে কী তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এটি কোনো নতুন প্রজেক্ট বা প্রচারণা, তবে আসলে এর পেছনে আছে এক নির্মম বাস্তবতা। ডিজিটাল সহিংসতা ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা ছড়াতে ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’ নামে নতুন এক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী, মডেল, সংগীতশিল্পীসহ দেশের বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন পরিচিত মুখ।
তারা নিজেদের ছবিতে প্রতিদিন অনলাইনে কতবার হয়রানির শিকার হন সেই সংখ্যা প্রকাশ করছেন।
এই অভিযানে প্রথম আওয়াজ তোলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। ২৫ নভেম্বর তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে গালে বড় করে লেখা ‘৯’। ক্যাপশনে তিনি জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৯টি সাইবার হয়রানির শিকার হন। তিনি লেখেন, ‘মানুষ হয়তো কেবল একটি সংখ্যা দেখছে, তবে এর পেছনে আছে আমার প্রতিদিনের সংগ্রাম, ভয় ও অপমানের গল্প।’
তিশার পর একে একে আরও অনেকে যোগ দেন। অভিনেত্রী রুনা খান প্রকাশ করেন ‘২৪’, শবনম ফারিয়া ‘১০০০’, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি ‘৩’, মৌসুমী হামিদ ‘৭২’, সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল ও আশনা হাবিব ভাবনা ‘৯’ এবং ‘৯৯+’ প্রকাশ করেন।
সংখ্যাগুলো ভয়াবহ হলেও এটি বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। নারীরা অনলাইনে প্রতিদিন কী অপমান ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হন তা সামনে আনছেন তারা।
অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ গালে লিখেছেন ‘৭২’, আর রুনা খান তার হাতের তালুতে লিখেছেন ‘২৪’। তিনি বলেন, ‘তারকা তো বটেই, সাধারণ নারীও প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানির শিকার হন। গত দশ বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বেড়েছে, তবে ব্যবহারবিধি শেখেনি অনেকেই।’
গালে ‘৯৯+’ লিখে ভাবনা ক্যাপশনে নারীদের উৎসাহিত করতে লিখেছেন, ‘তোমার নম্বরের গল্প বলো, আরও জোরে আওয়াজ তোলো’। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর নারীদের অনলাইন পরিবেশ আরও অনিরাপদ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এই ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’ আন্দোলন ১৬ দিনব্যাপী চলবে। তারকারা চাইছেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করে সমাজের সমস্যাকে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে আনতে।
সবার উদ্দেশে আহ্বান একটাই, চুপ না থেকে সংখ্যার মাধ্যমে প্রতিবাদ করুন।
খবরওয়ালা/টিএসএন