খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের প্রধান আকাশপথের প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং জনস্বার্থে এটি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেক্টরে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে এই টার্মিনালটি যেন আর দেরি না করে চালু করা যায়।
৯৯ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হওয়ার পরেও কেন টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি— সাংবাদিকদের এমন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,
“কেন এটি আগে চালু হয়নি, সেই প্রশ্নটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের করা সমীচীন ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ঝুলে থাকা বড় প্রকল্পগুলো সচল করার কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী এখন চেষ্টা করছেন যেন দ্রুততম সময়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়।”
টার্মিনালটি ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি। তিনি জানান, বর্তমানে এই প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালনার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে এবং সমস্ত কারিগরি নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিচে এই মেগা প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| প্রকল্পের নাম | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প। |
| নির্মাণ ব্যয় | প্রায় ২১,৩৯৯ কোটি টাকা। |
| বার্ষিক যাত্রী সক্ষমতা | প্রায় ১২ মিলিয়ন (১ কোটি ২০ লাখ)। |
| নির্মাণকারী সংস্থা | জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং (এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম)। |
| প্রধান বৈশিষ্ট্য | অত্যাধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ৫৪টি চেক-ইন কাউন্টার এবং মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং। |
| অপারেশন মডেল | পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে পরিচালনার পরিকল্পনা। |
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক ও বিমান খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
বৈঠকে টার্মিনালের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বেবিচক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সামনে টার্মিনালের বর্তমান প্রযুক্তিগত অবস্থা তুলে ধরেন। সরকার আশা করছে, পিপিপি মডেলের আওতায় দক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে এই টার্মিনাল পরিচালনা করলে যাত্রীরা বিশ্বমানের সেবা পাবেন।