খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
“নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।”
এই অমর বাণীরই দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন বীর শহীদ কাজী নুরুন্নবী বাবুল।
উত্তরের শান্ত ছোট্ট জনপদ নওগাঁ শহরের কাজীপাড়ার এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। পিতা কাজী সাখাওয়াত হোসেন, মাতা নূরুস সাবাহ রোকেয়া। তাঁদের বাড়ির নাম ‘লতা বিতান’—সেই বাড়িই আজও স্মরণ করিয়ে দেয় বাবুলের বীরত্বগাথা।
১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র এবং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। কিন্তু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে পাশে সরিয়ে, জাতির দুর্দিনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সংগ্রামী মুক্তিকামী এক নেতা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিব বাহিনীর রাজশাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন সাহসিকতার সঙ্গে।
কিন্তু সেই বীরত্বের পথেই শেষ হল তাঁর জীবনযাত্রা। ১ অক্টোবর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে আটক করে নিয়ে যায় রাজশাহীর শহীদ জোহা হলে। তারপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
শহীদ কাজী নুরুন্নবীর ছিল ডায়েরি লেখার অভ্যাস। লেখনীর মুন্সিয়ানা বলেছিল—তিনি চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি একদিন হয়তো হয়ে উঠতেন একজন সাহিত্যিকও। কিন্তু ব্যক্তিগত খ্যাতি কিংবা ভবিষ্যৎ নয়—তাঁর কাছে বড় ছিল মুক্ত মাতৃভূমি। তাই প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে তিনি লড়ে গেছেন স্বাধীনতার জন্য।
তিনি বিজয়ের পতাকা চোখে দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের একটি হোস্টেল তাঁর নামে নামাঙ্কিত হয়েছে।
আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহীদ কাজী নুরুন্নবীকে—
যিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, সত্যিকার বীরেরা মৃত্যুহীন।