খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে মাঘ ১৪৩২ | ১৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সালমান ওমরের সমর্থক নজরুল ইসলাম (৪০) কে হত্যার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার নেতৃত্ব দেন দুই স্থানীয় ব্যক্তি—আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আজহারুল ইসলাম।
ঘটনা ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে, যখন সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কার্যালয় উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পর দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। হামলার সময় নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাড়ি ধোবাউড়ার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাকপাড়া রামসিংহপুরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া নোমান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের নাতি। আজহারুল ইসলাম বিএনপির কর্মী, নোমানও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
নজরুল ইসলামের লাশ ময়নাতদন্তের পর শনিবার বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলা সদরে বিক্ষোভের আকারে নিয়ে আসা হয়। বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন নিহতের পরিবার ও সালমান ওমরের সমর্থকরা। তারা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এরপর প্রথম জানাজা উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং রাত আটটায় পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে। নিহতের বড় ছেলে মো. সোলাইমান বলেছেন, “আমার বাবাকে হত্যার বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে আমরা শাস্তি দাবি করি।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার সময় ও স্থান | ১৫ জানুয়ারি, শুক্রবার, এরশাদ বাজার, ধোবাউড়া |
| নিহত ব্যক্তি | নজরুল ইসলাম, ৪০, দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন |
| হামলার নেতা | আব্দুল্লাহ আল নোমান, আজহারুল ইসলাম |
| গ্রেপ্তারকৃত | মো. আদম আলী (৫৪), মো. দুলাল মিয়া (৫৩), মো. ইব্রাহিম (৫২) |
| মামলা দায়েরকারী | মো. সোলাইমান, নিহতের ছেলে |
| নিহতের লাশবিক্ষোভ | ধোবাউড়া উপজেলা সদর, বিকেল ৪:৩০ থেকে ৫:৩০ |
| মানববন্ধন ও জানাজা | উপজেলা পরিষদ মাঠ ও পারিবারিক কবরস্থান, রাত ৮টা পর্যন্ত |
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।