খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং স্টেশনে সোমবার বিকেলে ঘটে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা, যেখানে মাদকসেবী সন্দেহে আটক ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার সময় হঠাৎ মারা যান এক পুলিশ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রূপণ কান্তি দে (৫২)। তিনি হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামে। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, হৃদরোগের কারণে তিনি মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহাম্মদ জুনাইদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হারবাং স্টেশনে দেখে আটক করেন উপপরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেন ও এএসআই রূপণ কান্তি দে। রূপণ কান্তি প্যান্টের বেল্ট ধরে জুনাইদকে আটক রাখছিলেন। এই সময় এসআই মোফাজ্জল জুনাইদকে মাদকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। হঠাৎই রূপণ কান্তি মাটিতে ঢলে পড়েন।
প্রাথমিকভাবে তাঁকে উপজেলা বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রূপণ কান্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসময় আটক জুনাইদ পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, জুনাইদ এলাকায় পরিচিত মাদকসেবী। যদিও তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জায়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, রূপণের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, আগেও তিনি দু’বার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। হঠাৎ মৃত্যুর দৃশ্য দেখে এসআই মোফাজ্জলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
| সময় (২৭ মার্চ ২০২৬) | ঘটনা |
|---|---|
| বিকেল ৫:৩০ | রূপণ কান্তি ও এসআই মোফাজ্জল জুনাইদকে আটক করেন |
| বিকেল ৫:৪৫ | রূপণ হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান |
| বিকেল ৬:০০ | প্রথম হাসপাতালে নেওয়া হয় |
| সন্ধ্যা ৭:০০ | চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানো এবং মৃত ঘোষণা |
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেছেন, “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এএসআই রূপণ কান্তির মৃত্যু হয়েছে। আটককৃত জুনাইদকে মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
এই ঘটনায় চকরিয়া থানায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, পুলিশি তৎপরতার সময়ও হৃদরোগসহ স্বাস্থ্য বিষয়ক ঝুঁকি কিভাবে এড়িয়ে চলা যায় তা এখন আলোচনা করছে।
এএসআই রূপণ কান্তির অকাল মৃত্যু চকরিয়া ও হারবাং এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে, এবং পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতার গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হয়েছে।