খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রবল বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামের রাউজানে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানি ৬ থেকে ৮ ফুট বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নদী তীরবর্তী ৫০টির বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্লাবনে ডুবে গেছে শত শত বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, ধানের বীজতলা, মাছের পুকুর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াপাড়া, মোকামীপাড়া, সামমাহালদারপাড়া, ছামিদর কোয়াং, কচুখাইন, দক্ষিণ নোয়াপাড়া এবং উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম, সওদাগরপাড়া, সুজারপাড়া, পূর্ব উরকিরচর, খলিফার ঘোনা ও বৈইজ্জাখালি উল্লেখযোগ্য। এসব গ্রামে জোয়ারের পানিতে শত শত একর আমন ধানের জমি এবং মাছের পুকুর ভেসে গেছে।
সোমবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নোয়াপাড়া ও উরকিরচরের অধিকাংশ সড়ক কোমর থেকে বুকসমান পানিতে ডুবে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, হাটহাজারী অংশে বেড়িবাঁধ নির্মিত হলেও রাউজানে তা না থাকায় অমাবস্যা-পূর্ণিমায় নদীর পানি বাড়লে প্লাবিত হয় নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো। এ বছর বৃষ্টির তীব্রতায় পানি আরও বেশি বেড়েছে, ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
মোকামীপাড়ার মৎস্যচাষি কাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি হালদার তীরে হলেও কোনো বাঁধ নেই। তাই কর্ণফুলী বা হালদায় পানি বাড়লেই গ্রামে ঢুকে পড়ে। আমরা বছরের ছয় মাস পানিবন্দী অবস্থায় থাকি।’
একই গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ ইসমাইল জানান, তিনি ১০ শতক জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। কিন্তু হালদার পানিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অপর এক চাষি আবদুল শুক্কুর জানান, তারা কয়েকজন মিলে চারটি বড় পুকুরে মাছ চাষ করলেও ৫-৬ ফুট পানির স্রোতে সব মাছ ভেসে গেছে, প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম কবির বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি করেছে। পানি কমলে তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করবেন।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিসান বিন মাজেদ জানান, ‘নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক গ্রাম তলিয়ে গেছে। মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তালিকা তৈরি করে সহায়তার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এন