খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় আবৃত। জাতীয় নৌপরিবহন প্রশিক্ষণপ্রার্থী নাফিজ আহমেদের (২০) অকালমৃত্যু স্থানীয়রা গভীর দুঃখ ও হতবাক হওয়ার সঙ্গে স্মরণ করছে। ছোটবেলা থেকেই সমুদ্রযাত্রার স্বপ্ন দেখতেন নাফিজ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি মাদারীপুরের ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে শীঘ্রই একজন ট্রেইনি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে একটি জাহাজে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিপর্যয় ঘটে গত বৃহস্পতিবার ভোরে, যখন মিরসরাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির দিকে যাত্রা করা একটি বাস চট্টগ্রামের পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। দুর্ঘটনায় নাফিজসহ তিনজন যাত্রী নিহত হন। নিহত অন্য দুইজন হলেন চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের আব্দুল হেলালের কন্যা সাবিতুন নাহার (১৯) এবং গাইবান্ধার কাটলমারির প্রয়াত নয়া ব্যপারীর ছেলে মিন্টু মিয়া (২১)। এ ছাড়া আরও পাঁচ থেকে ছয় যাত্রী আহত হন এবং তাদের নিকটস্থ হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে।
নাফিজের পিতা নুরুল আলম চোখের জল ধরে বলতে গিয়ে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সে খুব বুদ্ধিমান ছিল, মাধ্যমিক পরীক্ষায় সবগুলো বিষয়ে এ+ পেয়েছে। সমুদ্রযাত্রার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়। আমরা ইতিমধ্যেই তার পাসপোর্টের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ২৯ ডিসেম্বর বাড়িতে এসেছে, ছুটি কাটিয়ে যাত্রা করল এবং হাসিমুখে আমাদের বিদায় জানাল। অথচ সকালে সে আর ফিরল না, ফিরল কফিনে।”
নাফিজের শিক্ষা জীবনেও তার উজ্জ্বলতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। চট্টগ্রামের একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষা শেষ করার পর ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তার ভর্তি পরিবারে দীর্ঘমেয়াদি আনন্দ বয়ে এনেছিল।
গতকাল সকাল ১১টায় পরিবারের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা গভীর শোকের আবহে ছেয়ে যায়। আত্মীয়, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা জানাজা ও দাফনের জন্য একত্রিত হন। জুম্মা নামাজের পর তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
দুর্ঘটনার পর নাফিজের শ্বশুর মোবারক হোসেন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক বোরহান উদ্দিন নিশ্চিত করেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। উভয় চালক পালিয়ে গেছেন। তদন্ত চলছে।”
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| নাম | বয়স | গ্রাম/ঠিকানা | পরিচয় / সম্পর্ক | নোটস |
|---|---|---|---|---|
| নাফিজ আহমেদ | ২০ | মসজিদিয়া, খৈয়াছড়া | শিক্ষার্থী, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট | সমুদ্রযাত্রার স্বপ্ন দেখতেন |
| সাবিতুন নাহার | ১৯ | চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম | আব্দুল হেলালের কন্যা | বাসের যাত্রী |
| মিন্টু মিয়া | ২১ | কাটলমারি, গাইবান্ধা | প্রয়াত নয়া ব্যপারীর ছেলে | বাসের যাত্রী |
স্থানীয় কমিউনিটির জন্য এটি একটি গভীর ধাক্কা। তরুণদের জীবন কতটা সংবেদনশীল এবং নিরাপদ যাত্রার গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য, তা এই দুর্ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে। নাফিজের পরিবার এখনও ক্ষতসন্তান হারানোর শোক সহ্য করছে, একজন যুবক যার সম্ভাবনা এবং স্বপ্ন শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে।