খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবৈধ অভিবাসন ও নথি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে এক ‘বাংলাদেশি নাগরিককে’ আটক করেছে ভোপাল পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম আব্দুল কালাম, যিনি ‘নেহা’ নামে তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভোপালে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আব্দুল কালাম মাত্র ১০ বছর বয়সে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। প্রায় দুই দশক মুম্বাইয়ে কাটানোর পর তিনি ভোপালের বুধওয়ারা এলাকায় বাস শুরু করেন। সেখানে তিনি ‘নেহা’ ছদ্মনামে হিজড়া সম্প্রদায়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পুলিশের দাবি, স্থানীয় দালালদের সহায়তায় তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং একটি ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। এমনকি ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণও করেছেন তিনি।
আব্দুল কালাম বুধওয়ারা এলাকায় একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেছেন এবং সবাই তাঁকে ‘নেহা’ নামেই চিনত। তিনি সত্যিই তৃতীয় লিঙ্গের কিনা, নাকি নিজের পরিচয় আড়াল করতে এই ছদ্মবেশ নিয়েছেন তা নিশ্চিত হতে পুলিশ চিকিৎসকদের মাধ্যমে শারীরিক যাচাই করছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মহারাষ্ট্রে থাকার সময়ও তিনি হিজড়া সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি কোনো বড় ধরনের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য? পুলিশ জানায়, অন্য তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যরাও এই জালিয়াতিতে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আব্দুলকে সহযোগিতা করা দুই স্থানীয় যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে, এর পেছনে একটি বড় পরিসরের অবৈধ অভিবাসন ও নথি জালিয়াতি নেটওয়ার্ক কাজ করছে।
আব্দুল কালামের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও চ্যাট বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তাকে ফরেনার্স অ্যাক্টে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখা হয়েছে। ভোপাল পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শালিনী দীক্ষিত বলেন, ‘তিনি গত ৮-১০ বছর ধরে ভোপালে বসবাস করছেন। এর আগে মহারাষ্ট্রে ছিলেন। আমরা একটি সূত্র থেকে খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করি। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশেও ভ্রমণ করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি।’
খবরওয়ালা/এন