খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে মাঘ ১৪৩২ | ৩০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়তে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত বলেন, আসামের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ লাখ ‘মিঞা’ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আদর্শগতভাবে এই জনগোষ্ঠীকে আসামে নয়, বরং বাংলাদেশে ভোট দিতে দেওয়া উচিত।
‘মিঞা’ শব্দটি আসামে মূলত বাংলাভাষী মুসলমানদের বোঝাতে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই মন্তব্যে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ মন্তব্য করেন, “মিঞা জনগোষ্ঠীকে চাপে রাখার জন্য মানুষ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেননি।” কংগ্রেস নেতা আমান ওয়াদুদ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসামে সংবিধানকে পুরোপুরি অকার্যকর করে তুলেছেন।”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “ভোট চুরি মানে আমরা কিছু মিঞা ভোট চুরি করার চেষ্টা করছি। আমাদের কাজ হলো তাঁদের কষ্টে রাখা।” তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন আইনের মধ্যে থেকে কিছু ‘উৎপাত’ বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে যাতে এই সম্প্রদায়ের ভোটাররা আসামে ভোট দিতে না পারেন।
এর আগে, আসামের ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ। এই তালিকায় মৃত, অন্যত্র গিয়েছেন বা দ্বৈত এন্ট্রি থাকা ভোটারও চিহ্নিত করা হয়েছে।
| ভোটার তথ্য | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভোটার | 2,51,00,000 |
| মৃত ভোটার | 4,78,000 |
| অন্যত্র চলে গিয়েছেন | 5,23,000 |
| দ্বৈত এন্ট্রি | 53,619 |
| যাচাই সম্পন্ন পরিবার | 61,00,000+ |
বিরোধীরা গত রোববার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ সংশোধন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আইনি লঙ্ঘন এবং প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এটিকে স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও অসাংবিধানিক দাবি করেন।
উল্লেখ্য, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এর আগে বাংলাদেশ ও মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা আসামের ভোটপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।