খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
রাজস্থানের সিকার জেলার ডান্তা শহরের একটি স্কুলে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার স্কুল চলাকালীন সময়ে নয় বছরের ছাত্রী প্রচি কুমাওত হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান এবং পরে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদরোগজনিত জটিলতাই এই অকাল মৃত্যুর কারণ।
সকালবেলায় পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় স্কুলে এসেছিল প্রচি। প্রার্থনায় অংশ নেয়, ছিল অ্যাসেম্বলিতেও। কিন্তু দুপুরবেলার খাবার সময় টিফিন খোলার পরপরই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকরা তাকে নিকটস্থ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, প্রচিকে অচেতন অবস্থায় আনা হয়। তার নাড়ি চলছিল না, রক্তচাপ ছিল না, এমনকি শ্বাসও বন্ধ ছিল। জরুরি ভিত্তিতে সিপিআর, অক্সিজেন, ইনজেকশন দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালানো হয়।
চিকিৎসায় সামান্য সাড়া মিললে তাকে জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু পথেই সব শেষ হয়ে যায়। হাসপাতালের গেটেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রচি কিছুদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছিল, তাই স্কুলে আসেনি। তবে সোমবার সকালে সে ছিল একেবারেই স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক খুবই বিরল। হতে পারে তার জন্মগত কোনো হৃদরোগ ছিল, যা আগে ধরা পড়েনি। কিংবা শরীরের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবস্থা (electrical conduction system)-তে কোনো ত্রুটি থেকেও এমনটি ঘটতে পারে।
তারা জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়, তবে প্রাথমিক লক্ষণ দেখে হৃদযন্ত্রজনিত জটিলতার সম্ভাবনাই বেশি মনে হচ্ছে।
প্রচির পরিবার তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছে। তারা ময়নাতদন্ত করাতে রাজি হননি। তাদের দাবি, মেয়েটির কোনো দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা ছিল না। এই আকস্মিক ঘটনায় তারা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন।
স্কুলে তোলা প্রচির শেষ ভিডিওতে দেখা যায়, সে হাসিমুখে নিজের নাম বলছে। সেই হাসিই এখন স্মৃতিতে রয়ে গেল—চিরতরে।
খবরওয়ালা/এমএজেড