খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফরিদপুরের সদরপুরে মাত্র ১০ টাকায় ইলিশ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন মাওলানা রায়হান জামিল নামের এক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী। তবে ইলিশের তুলনায় ভিড় হওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ফলে মাছ নিতে আসা জনতার মধ্যে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। একপর্যায়ে জনতার চাপে ইলিশ ফেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন রায়হান জামিল।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১০ টাকায় ইলিশ বিতরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। কিন্তু ইলিশের সংখ্যা সীমিত থাকায় হট্টগোল শুরু হয়।
একপর্যায়ে জনতার চাপে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান রায়হান জামিল। পরে তিনি ভাষণচর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা তার গাড়ি আটকে দেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে তিনি কোনোমতে রক্ষা পান।
ইলিশ নিতে আসা নুরু শেখ নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে ইলিশ মাছ দেওয়া হবে—এমন খবর শুনে সকাল থেকে স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু মাছের চেয়ে মানুষ বেশি ছিল। শেষে খালি হাতেই ফিরতে হলো। ধাক্কাধাক্কি, মারামারি শুরু হয়ে যায়। পরে দেখি স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেই পালিয়ে যাচ্ছেন।’
স্থানীয় বৃদ্ধা জোহরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। হাজার টাকা খরচ করে ইলিশ কেনার সাধ্য নেই। তাই ১০ টাকায় ইলিশ দেওয়ার খবর শুনে সকালে এসেছি। রোদে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হওয়ার জোগাড় হলো, তবুও মাছ পেলাম না। দিতে পারবি না তো খবর দেওয়ার দরকার কী?’
আরেক স্থানীয় টিটু ইসলাম জানান, ‘তিনি কতজনকে ইলিশ দেবেন তা বলেননি। তবে প্রায় ৬০০ পিস ইলিশ আনা হয়েছিল। কিন্তু মানুষের সংখ্যা ছিল কমপক্ষে দুই হাজার। তাই হট্টগোল শুরু হয়।’
ঘটনা প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল বলেন, ‘মানুষের উপকারের জন্যই ইলিশ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমাকে দ্রুত চলে আসতে হয়।’
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ‘ঘটনার আগে আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। তিনি আমাদের পরামর্শ না মেনে নিজ উদ্যোগে বিতরণ কার্যক্রম চালান। এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
খবরওয়ালা/শরিফ