খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
জার্মান ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব শালকে ০৪ দীর্ঘ তিন মৌসুমের বিরতি শেষে পুনরায় দেশটির শীর্ষ ফুটবল লিগ বুন্দেসলিগায় তাদের স্থান নিশ্চিত করেছে। গত শনিবার (২ মে) ফরচুনা ডুসেলডর্ফের বিপক্ষে ১-০ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে দ্বিতীয় স্তরের বুন্দেসলিগা থেকে পদোন্নতি নিশ্চিত করে তারা। এই জয়ের ফলে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমে জার্মানির সর্বোচ্চ ফুটবল আসরে আবারও দেখা যাবে ৭ বারের এই লিগ চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। তবে ম্যাচের শুরুর দিকেই ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় শালকের জন্য। খেলার মাত্র ১৩তম মিনিটে দলের অধিনায়ক কেনান কারামান দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে লিড এনে দেন। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় শালকে। এই একমাত্র গোলের জয়টিই তাদের জন্য বুন্দেসলিগার টিকিট নিশ্চিত করে দেয়।
পয়েন্ট তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায়, লিগে এখনো শালকের আরও তিনটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। তবে বর্তমানে দলটির সংগ্রহ ৬৭ পয়েন্ট, যা তাদের টেবিলের শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকা গাণিতিকভাবে নিশ্চিত করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা হ্যানোভারের চেয়ে এখন ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছে শালকে। ফলে বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফল যাই হোক না কেন, শীর্ষ দুইয়ে থেকে সরাসরি পদোন্নতি পাওয়া এখন তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
নিচে শালকের বর্তমান অবস্থান ও অর্জনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| মোট অর্জন | ৭ বার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন |
| বিপক্ষ দল | ফরচুনা ডুসেলডর্ফ |
| ম্যাচের ফলাফল | ১-০ (শালকে জয়ী) |
| গোলদাতা | কেনান কারামান (১৩ মিনিট) |
| বর্তমান পয়েন্ট | ৬৭ |
| লিগ ব্যবধান | ৩য় স্থানের দল থেকে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে |
| নিশ্চিত পদোন্নতি | ২০২৬-২৭ বুন্দেসলিগা মৌসুম |
শালকে ০৪-এর জন্য গত কয়েক বছর ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও চড়াই-উতরাইয়ের। গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তারা দ্বিতীয় বিভাগ থেকে শীর্ষ স্তরে উন্নীত হলো। ২০২১ সালে তারা প্রথমবারের মতো বুন্দেসলিগা থেকে অবনমিত হয়েছিল। তবে পরের মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ফিরে আসে। দুর্ভাগ্যবশত, ২০২৩ সালে আবারও অবনমনের শিকার হতে হয় দলটিকে। দীর্ঘ তিন মৌসুম পর এবার পুনরায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে তারা মূল আসরে ফিরছে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়ক কেনান কারামান বলেন, “এটি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্লাব হিসেবে, শহর হিসেবে এবং আমাদের চারপাশের সবার জন্য আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে এই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
ম্যাচ চলাকালীন এবং পরে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সমর্থকদের মাঠে প্রবেশ না করার জন্য আগে থেকেই অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং নিরাপত্ত রক্ষায় শত শত স্টুয়ার্ড মোতায়েন করা হয়। ফলে সমর্থকরা মাঠে না নেমে গ্যালারিতে থেকেই আতশবাজি এবং গান গেয়ে উৎসব পালন করেন। ক্লাবটির এই প্রত্যাবর্তন জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী মৌসুমে বুন্দেসলিগার প্রতিদ্বন্দ্বিতা শালকের উপস্থিতিতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা।