দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৯৪

সম্প্রতি দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নতুন প্রাণহানির ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে যে ১০ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের মধ্যে একজনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৬৬ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে (১ জন হাম শনাক্ত এবং ৪ জন উপসর্গসহ)। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ২ জন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে ১ জন করে শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।

সংক্রমণ ও চিকিৎসাধীন রোগীর পরিসংখ্যান

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নিচে ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হলো:

ক্যাটাগরি পরিসংখ্যান
মোট হাম শনাক্তের সংখ্যা ৫,৩১৩ জন
মোট হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশুর সংখ্যা ৪০,৪৯১ জন
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট শিশু ২৭,৮১৬ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৪,০৯০ জন
হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু ৫০ জন
হামের উপসর্গে মৃত্যু ২৪৪ জন
সর্বমোট মৃত্যু (শনাক্ত + উপসর্গ) ২৯৪ জন

প্রেক্ষাপট ও জনস্বাস্থ্য সতর্কতা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫ হাজার ৩১৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া শিশুদের তুলনায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি এবং লালচে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত না করা গেলে এটি নিউমোনিয়া বা মারাত্মক ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় হামের টিকা নিশ্চিত করা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখা এবং পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ হাজার ৭২৬ জন শিশু, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।