এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
আজ, ৭ আগস্ট, কবি সুফি মোতাহার হোসেনের প্রয়াণ দিবসে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য কবিসত্তাকে।
সুফি মোতাহার হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, ফরিদপুর জেলার ভবানন্দপুর গ্রামে। তাঁর পিতা মোহাম্মদ হাশেম ছিলেন পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা। শিক্ষাজীবনের শুরু ফরিদপুর জেলা স্কুলে, পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজ থেকে এফএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩১ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবন শুরু করেন ফরিদপুর জজ কোর্টে, তবে দীর্ঘ রোগভোগের কারণে তিনি সে চাকরি পরিত্যাগ করে শিক্ষকতায় যোগ দেন ফরিদপুর ঈশান ইনস্টিটিউটে।
সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ ও কাজী নজরুল ইসলামের সংস্পর্শ তাঁকে সাহিত্যের পথে অনুপ্রাণিত করে। পাশ্চাত্য ঘরানার প্রভাবে তিনি সনেট রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং খুব দ্রুতই এই শৈলীতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তাঁর রচিত ‘দিগন্ত’ সনেটটি স্থান পায় ‘বাংলা কাব্য পরিচয়’ পাঠ্যপুস্তকে, যা ছিলো সাহিত্যে তাঁর স্বীকৃতির প্রথম ধাপ।
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সনেট সংকলন—এরপর একে একে আসে ‘সনেট সঞ্চয়ন’ (১৯৬৬) ও ‘সনেটমালা’ (১৯৭০)। প্রেম ও প্রকৃতি তাঁর সনেটের প্রধান উপজীব্য, যা পাঠককে কাব্যিক আবেশে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি অর্জন করেন—১৯৬৫ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট পদক, ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার। ১৯৭৫ সালের এই দিনে, ৭ আগস্ট, তিনি ঢাকায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এক নিভৃতচারী কবিকে, যিনি সনেটকে বাংলাভাষায় প্রতিষ্ঠা দিয়ে আমাদের সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ ও মহিমান্বিত।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, কবি। আপনার কাব্যভাষা যুগের পর যুগ পাঠক হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড