খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি মসজিদের ভেতরে নামাজের প্রস্তুতির সময় হামলার ঘটনায় হাফিজ মিয়া (৮০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল কুমিল্লা পাড়ার ফুরকানিয়া জামে মসজিদে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হাফিজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে ইমামের অনুপস্থিতিতে আজান দেওয়া এবং ইমামতির দায়িত্ব পালন করতেন। প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি মসজিদে উপস্থিত হন। নামাজ শুরুর প্রস্তুতির সময় হঠাৎ একই এলাকার জসিম মিয়া (৩৫) তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় একটি কলম দিয়ে তাকে একাধিকবার আঘাত করা হয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই মসজিদে উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক করার সময় তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের মরদেহ পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাফিজ মিয়া ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মসজিদে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এমন একটি পবিত্র স্থানে এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | হাফিজ মিয়া (৮০) |
| আহত/অভিযুক্ত | জসিম মিয়া (৩৫) |
| স্থান | ফুরকানিয়া জামে মসজিদ, পশ্চিম লইয়ারকুল কুমিল্লা পাড়া, শ্রীমঙ্গল |
| সময় | রোববার ভোর, ফজরের নামাজের সময় |
| ঘটনার ধরন | মসজিদের ভেতরে অতর্কিত হামলা |
| অস্ত্র/মাধ্যম | কলম দিয়ে আঘাত |
| আইনগত ব্যবস্থা | অভিযুক্ত আটক, তদন্ত চলমান |
| মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা | ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
এই ঘটনাটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গভীর প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন সহিংসতা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকেও নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।