খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
রংপুরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’কে ঘিরে দায়ের করা একটি হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘স্ট্রোক করে মৃত্যু’কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা হিসেবে সাজিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মাহমুদুল হক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর নগরের ধাপ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাজিরহাট থানার পুলিশ। বিকেলে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী আমেনা বেগম গত ৩ জুন তাঁর স্বামী ছমেস উদ্দিনের ‘হত্যা’র অভিযোগ এনে হাজিরহাট থানায় মামলা করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতা, স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয় কর্মীদের নাম উল্লেখ করে ছমেস উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার কথা বলা হয়েছে। মামলার ৫৪ নম্বর আসামি মাহমুদুল হক।
কিন্তু ছমেস উদ্দিনের কবরের পাশে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে—পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে তিনি পড়ে যান এবং সেখানেই ‘স্ট্রোক’ করে মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকও। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও বলছেন, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং কিছুদিন আগেই তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়।
জামায়াতের সাবেক নেতা নাছির উদ্দিন জানান, ঘটনাটি ২ আগস্ট নয়, ২ জুলাই ঘটেছে। তিনি বলেন, “তিনটি মোটরসাইকেলে ৯ জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য আমার বাড়িতে আসছিলেন। আমি আগেভাগেই বাড়ি ছেড়ে দিই। পরে শুনি, ছমেস দৌড়াতে গিয়ে পড়ে মারা গেছেন।”
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হকের স্ত্রী মাসুবা হাসান বলেন, “আমার স্বামী নির্দোষ। ওসির নেতৃত্বে বাদীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে ইচ্ছেমতো নাম ঢোকানো হয়েছে। যাঁরা আমার স্বামীকে আগে থেকেও টার্গেট করছিলেন, তাঁরাই এর পেছনে আছেন।”
এ মামলার আরেক আসামি রুবায়েত হোসেনের ছেলে ইউশা মোহন রাতুল (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা) বলেন, “আমার বাবাকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা বানানো হয়েছে, অথচ তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় আহত হন। মামলায় অনেক নিরপরাধ মানুষকে জড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাজিরহাট থানার ওসি আবদুল আল মামুন শাহ নিজেই মামলাটি রেকর্ড করেছেন এবং তিনিই তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন। “এই মামলায় ওসির অস্বাভাবিক আগ্রহ রয়েছে,” বলেন ইউশা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আবদুল আল মামুন শাহ বলেন, “আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করছি। অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে সবদিক বিবেচনা করব।” তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সাজানো নাটক কিংবা হয়রানির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলেও দাবি করেন তিনি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্ট্রোক না সহিংসতা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ১০ মাস পর হঠাৎ হত্যা মামলা, তাতে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নাম, এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের গ্রেপ্তার—এসব ঘটনা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে: এটি কি ন্যায়বিচারের উদ্যোগ, না কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পর্দার আড়ালে সাজানো কাহিনি?
খবরওয়ালা/ এমএজেড