খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ২১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৩৫৬ টাকা, যা গত মাসের (জানুয়ারি ২০২৬) ১,৩০৬ টাকার তুলনায় ৫০ টাকা বেশি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আজ (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে থাকলেও বাজারে সাধারণত এই নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। বিশেষত ১২ কেজি সিলিন্ডার, যা গৃহস্থালির জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, সেখানে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সরবরাহ–সংকট চলছে। এর ফলে বিক্রেতারা প্রতি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন।
চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, “বিইআরসি আইন অনুসারে প্রতিটি মাসে দাম নির্ধারণ করে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কিছু এলপিজি বিক্রেতা বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি।”
বিইআরসি নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির কেজি প্রতি দাম এখন সংযোজন করসহ (মুসক/ভ্যাট) ১১৩ টাকা ৪ পয়সা, যা গত মাসের ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সার তুলনায় ৪ টাকা ৪২ পয়সা বেশি।
নিচের টেবিলে বিভিন্ন এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ও গত মাসের তুলনা দেখানো হলো:
| সিলিন্ডারের ধরন | গত মাসের দাম (টাকা) | এই মাসের দাম (টাকা) | দাম বৃদ্ধি (টাকা) |
|---|---|---|---|
| বেসরকারি ১২ কেজি | ১,৩০৬ | ১,৩৫৬ | ৫০ |
| সরকারি ১২.৫ কেজি | ৮২৫ | ৮২৫ | ০ |
| অটো গ্যাস (প্রতি লিটার) | ৫৯.৮০ | ৬২.১৪ | ২.৩৪ |
বিইআরসি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সৌদি আরবের আরামকো প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে এই উপাদানের সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) প্রকাশ করে। বিইআরসি এই সিপিকে ভিত্তি করে দেশীয় বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় হিসাব করে পুরো মাসের জন্য ডলারের মূল্য সংযোজন করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ–সংকট থাকায় সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধির কারণে গৃহস্থালির ওপর চাপ আরও বাড়বে। ফলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাজার মনিটরিং এবং আমদানি বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।