খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধিই এ উন্নতির মূল চালিকা শক্তি। তবে, বাণিজ্য ঘাটতি এখনও চলতি হিসাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি হিসাব প্রায় ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল চালিকা শক্তি হিসেবে প্রবাসী আয় ৩৮.১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় ১৭.১ শতাংশ বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। তথাপি, চলতি হিসাব সামান্য ঘাটতি সহ ১৫.১ বিলিয়ন টাকায় রেকর্ড হয়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতি এ অর্থবছরে ২.৪৭ ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে, যা আগের বছরের ২.৪৯ ট্রিলিয়ন টাকার তুলনায় সামান্য কম। এক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, “আমদানি বৃদ্ধির তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির গতি বেশি হওয়ায় বহির্মুখী চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।”
রপ্তানি আয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫.৩১ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন টাকায়, যা দেশের শিল্পজাত পণ্যের জন্য বিদেশী উপকরণের উপর নির্ভরতা নির্দেশ করছে।
প্রবাসী আয় প্রধানত চালিত দ্বিতীয়িক আয় ৩.৭৫ ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে, যা বহির্মুখী ভারসাম্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করেছে। তবে বাণিজ্য, সেবা (৬৮৮.১ বিলিয়ন টাকা) এবং প্রাথমিক আয় (৬০৯.৮ বিলিয়ন টাকা) থেকে প্রচুর অর্থপ্রবাহ বাহির হওয়ায় চলতি হিসাবের চাপ কিছুটা কমেনি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদিও রপ্তানি এবং আমদানি উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে, আমদানি বৃদ্ধির হার রপ্তানির চেয়ে বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কাঠামোগতভাবে উচ্চ থাকে। স্বাধীন অর্থনীতিবিদ ডঃ জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, “উন্নতি স্বস্তিদায়ক হলেও তা ভঙ্গুর। রপ্তানিতে বৈচিত্র্য এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া চলতি হিসাবের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত হচ্ছে। রপ্তানি এবং আমদানি উভয়ই ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাত, চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
| সূচক | পরিমাণ (টাকা) | বছরগত পরিবর্তন (%) |
|---|---|---|
| রপ্তানি আয় | ৫.৩১ ট্রিলিয়ন | +১৭.১ |
| আমদানি | ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন | +৩.৯ |
| বাণিজ্য ঘাটতি | ২.৪৭ ট্রিলিয়ন | -০.৮ |
| প্রবাসী আয় | ৩.৭৫ ট্রিলিয়ন | +৩৮.১ |
| চলতি হিসাব ঘাটতি | ১৫.১ বিলিয়ন | – |
পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানির ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাংলাদেশের বহির্মুখী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমদানি চাহিদা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা চলতি হিসাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।