২০২৬ প্রবৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ এনসিসি ব্যাংকের

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত যখন বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জন্য নিজেদের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন কৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড। কক্সবাজারের সি পার্ল বিচ রিসোর্টে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ব্যবসায় সম্মেলনে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপকরা একত্র হয়ে ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেন।

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি কৌশল নির্ধারণ করা, যা একদিকে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে ব্যাংকটিকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় তিনটি পরস্পরসম্পর্কিত স্তম্ভ—সেবার পরিসর সম্প্রসারণ, কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার গুণগত রূপান্তর। ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কেবল প্রবৃদ্ধির পেছনে ছোটা নয়, বরং বিচক্ষণতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে এগোনোই হবে সঠিক পথ।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে নানা চাপ ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এনসিসি ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতা সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জনের পেছনে ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি শাখা পর্যায়ের নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন, স্থানীয় বাজারে নতুন ব্যবসার সুযোগ চিহ্নিত করা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন তার স্বাগত বক্তব্যে জানান, ঋণ ও বিনিয়োগ, আমানত সংগ্রহ, আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য অর্থায়ন এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তহবিল সংগ্রহের ব্যয় হ্রাস এবং সম্পদের গুণগত মান উন্নয়নের ফলে মুনাফা ও আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালকবৃন্দ, স্বতন্ত্র পরিচালক, অতিরিক্ত ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান এবং সারা দেশের শাখা ব্যবস্থাপকরা অংশ নেন। আলোচনায় ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ও সেবা উৎকর্ষের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিচের সারণিতে সম্মেলনে আলোচিত প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

কৌশলগত ক্ষেত্র অগ্রাধিকার
ব্যবসা সম্প্রসারণ সেবার বৈচিত্র্য ও বাজার বিস্তার
আর্থিক কার্যক্রম ঋণ, আমানত ও বাণিজ্য অর্থায়নে প্রবৃদ্ধি
সম্পদের গুণগত মান খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার
ব্যয় ব্যবস্থাপনা তহবিল ও পরিচালন ব্যয় হ্রাস
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ডিজিটালাইজেশন ও প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ
গ্রাহকসেবা সেবার মান উন্নয়ন ও সম্পর্ক দৃঢ়করণ
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন

সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা শৃঙ্খলিত প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং সেবা উৎকর্ষে সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সুস্পষ্ট কৌশল ও গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ২০২৬ সালে এনসিসি ব্যাংক আরও স্থিতিশীল, আধুনিক ও সক্ষম আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করা হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।