খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলা এবং এর জের ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটে উঠলেও, ইরানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নতুন জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ফিফাকে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
১১ জুন ২০২৬ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। এই আসরে ‘গ্রুপ জি’-তে থাকা ইরান তাদের তিনটি ম্যাচই খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে—যার মধ্যে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়ায় এবং একটি সিয়াটলে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইরানি প্রবাসীদের একটি বিশাল অংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কট্টর বিরোধী।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পূর্ববর্তী আমলের ঐতিহ্যবাহী ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ (সিংহ ও সূর্য) খচিত পতাকাটি বর্তমান ইরান সরকারের বিরোধী পক্ষ ব্যবহার করে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এই প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশ আসন্ন বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে এই পুরোনো পতাকাটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ যে সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে, তার মধ্যে অননুমোদিত পতাকার বিষয়টি অন্যতম। তিনি ফিফার কাছে এই বিপ্লব-পূর্ব পতাকাটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফিফা তাদের ভেন্যু নির্দেশিকায় এই পতাকাটি নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা করছে।
বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’। সংস্থাটি সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ফিফা যদি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টা করে, তবে বিষয়টি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য বা ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াবে।
আইনি পরামর্শক শাহরুখ মোখতারজাদেহ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ফিফা যদি “লায়ন অ্যান্ড সান” খচিত পতাকাটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আমরা উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এই প্রসঙ্গে ফিফার কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে, সংস্থাটি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পতাকার নাম উল্লেখ না করে তাদের নিষিদ্ধ সামগ্রীর সাধারণ তালিকাটি প্রকাশ করে। ফিফার নীতিমালায় বলা হয়েছে:
“যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর এবং/অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির উপাদান স্টেডিয়ামে প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”
তবে ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ খচিত পতাকার কোন অংশটি এই নীতিমালার লঙ্ঘন করছে, তা ফিফা সুনির্দিষ্টভাবে স্পষ্ট করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, জনসমক্ষে ঘোষণা না করলেও ভেন্যুভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় ফিফা এই পতাকাটি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
ইরান ফুটবল দল ‘জি’ গ্রুপে থেকে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাদের ম্যাচগুলোর ভেন্যু, তারিখ এবং প্রতিপক্ষের বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| গ্রুপ | প্রতিপক্ষ দল | প্রথম ম্যাচের তারিখ | ম্যাচের ভেন্যু (যুক্তরাষ্ট্র) |
| গ্রুপ জি (Group G) |
১. নিউজিল্যান্ড ২. বেলজিয়াম ৩. মিসর |
১৫ জুন (বনাম নিউজিল্যান্ড) |
ক্যালিফোর্নিয়া (২টি ম্যাচ) সিয়াটল (১টি ম্যাচ) |
বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে ইরান ফুটবল দলের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় স্থাপন করার কথা ছিল। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন পরবর্তী সময়ে তাদের বেস ক্যাম্পটি অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পতাকা সংক্রান্ত এই আইনি জটিলতা টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলোর জন্য একটি বড় প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।