খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিসর নতুন সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে। গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে এটি ইতিবাচক সূচনার বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বছরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের এলডিসি (কম উন্নয়নশীল দেশ) থেকে উত্তরণের বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজন। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “২০২৬ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। দেশের গণতান্ত্রিক ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা—বিশেষ করে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে—কিছুটা কমতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, সাপ্লাই চেইন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো মূল ইস্যুগুলোতে অগ্রগতি সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সংস্কার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে যদি সরকার এগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন না করে বা আন্তর্জাতিক মান অনুসারে স্ট্যান্ডার্ডাইজ না করে, তাহলে অর্থনীতি পুনরায় সংকটে পড়তে পারে। শৈথিল্য মানে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”
নতুন সরকারের সম্ভাব্য কার্যক্রমের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ অন্যতম। নির্বাচনকেন্দ্রিক চাপ কমার ফলে সরকার নীতি ও বিনিয়োগ উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। তবে কিছু পুরোনো চ্যালেঞ্জ যেমন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক খরচ কমানো এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, এখনও মোকাবিলার অপেক্ষায় থাকবে।
অর্থনীতির মূল ক্ষেত্রগুলোতে ২০২৬ সালের প্রভাব সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| অর্থনৈতিক ক্ষেত্র | সম্ভাব্য প্রভাব | চ্যালেঞ্জ |
|---|---|---|
| বিনিয়োগ | স্থিতিশীল পরিবেশ বিনিয়োগ বাড়াবে | রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঝুঁকি কমাতে হবে |
| কর্মসংস্থান | নতুন বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি | দক্ষ জনশক্তি ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি |
| মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ | খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল হতে পারে | বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা |
| ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত | লেনদেন সহজ ও সম্প্রসারিত হতে পারে | ঋণপ্রাপ্যতা ও ডিজিটালাইজেশন |
| প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা | আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ বাড়বে | প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও প্রযুক্তি অভাব |
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করান, “২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হবে ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, যা দেশকে স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নেবে।”
সার্বিকভাবে, ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি সংকট ও সম্ভাবনার সমন্বিত বছর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন, ধারাবাহিক সংস্কার ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও দৃঢ় ভিত্তিতে দাঁড়াতে পারবে।