খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
জোহরান মামদানি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তার আগে নিউইয়র্কের মেয়র কে ছিলেন তা অনেকেরই জানা ছিল না। কেউ হয়তো তাদের নামও জানতো না। কিন্তু মামদানি গোটা বিশ্বের মিডিয়ার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি এমনভাবে মিডিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন, যা প্রায় প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের।
তবে আলোচনার বিষয় শুধু এতটুকুই নয়। মামদানি মূলত মার্কিন প্রচলিত ক্ষমতা কাঠামোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে আটকাতে পারেননি। শুধুই তাই নয়, তাকে আটকাতে বিলিয়ন ডলারের রাজনৈতিক লড়াইও চলে। কিন্তু সেই ধনীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি সফল হয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারের মূল নীতি ছিল—জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। এর মধ্যে শহরের মুদির দোকান, বিনামূল্যে গণপরিবহন এবং সর্বজনীন শিশুযত্ন পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কিন্তু এই প্রগতিশীল নীতি কিছু ধনী ব্যক্তির কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের রিপোর্ট অনুসারে, কমপক্ষে ২৬ জন বিলিয়নিয়ার এবং ধনী পরিবার সম্মিলিতভাবে তার বিরোধীদের সমর্থন করে। তারা মামদানি বিরোধী প্রচারণায় ২২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এদের মধ্যে ছিলেন—ব্লুমবার্গ এলপি-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ব্লুমবার্গ, হেজ ফান্ড ম্যানেজার বিল অ্যাকম্যান, এয়ারবিএনবি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা জো গেবিয়া এবং এস্টি লডারের উত্তরাধিকারী লাউডার পরিবারের সদস্যরা। এরা প্রত্যেকে স্বাধীন ব্যয় কমিটি ও সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিতে কমপক্ষে এক লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
শুধু মাইকেল ব্লুমবার্গ একাই ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে অ্যান্ড্রু কুমোকে সমর্থন করতে ৮ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন। অ্যাকম্যান ১.৭৫ মিলিয়ন এবং লাউডার সাড়ে সাত লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। মোট অনুদানের অর্ধেকের বেশি অর্থ, প্রায় ১৩.৬ মিলিয়ন ডলার, মামদানি ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার আগেই খরচ করা হয়েছিল।
বিরোধীদের উদ্দেশে ১৩ অক্টোবর একটি সমাবেশে মামদানি বলেছিলেন, “বিলিয়নিয়াররা যেমন বিল অ্যাকম্যান এবং রোনাল্ড লাউডার এই নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ ডলার ঢেলেছে, কারণ তারা বলছে আমরা নাকি একটি অস্তিত্বগত হুমকি। আমি স্বীকার করি, তারা ঠিকই বলছে।” উল্লেখ্য, এই ধনীদের মধ্যে ১৬ জনই নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জয়ের পর কিছু ওয়াল স্ট্রিটের ব্যক্তিত্ব, যারা প্রথমে মামদানির বিরোধী ছিলেন, এখন সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছেন। জেপি মর্গ্যান চেজের সিইও জেমি ডিমোন, যিনি আগে মামদানিকে সোশ্যালিস্টের চেয়ে বেশি মার্কসবাদী বলেছিলেন, এখন যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
জোহরান মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
সূত্র: এনডিটিভি